গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে ফিরতে চায় জবি শিক্ষক সমিতি


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২৩, ২০২৩, ৭:১১ অপরাহ্ণ /
গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে ফিরতে চায় জবি শিক্ষক সমিতি
নিরব আলী, জবি প্রতিনিধি:
নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ভর্তি কার্যক্রম চায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। গুচ্ছ ভুক্ত ২২ টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও গুনগত মান ফিরিয়ে আনতে এ দাবি জানিয়েছেন জবির শিক্ষক প্রতিনিধিরা।
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও গুচ্ছ ভর্তি কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হকের নিকট এ দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
শিক্ষক প্রতিনিধিরা জানান, সম্পূর্ণরূপে নতুন ও অভিনব এ পদ্ধতিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমন্বিতভাবে পরীক্ষা নিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা বিসর্জন, বিলম্বে পরীক্ষা গ্রহণের কারণে সেশনজট সৃষ্টি, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমার পরিবর্তে আরও বৃদ্ধি, আর্থিক স্বচ্ছতার অভাব, অপেক্ষাকৃত দুর্বল মেধার শিক্ষার্থী প্রাপ্তি ইত্যাদি বহুবিধ সমস্যার কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। এই মুহুর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ফিরতে হবে।
এবিষয়ে জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড.লুৎফর রহমান  বলেন, গুচ্ছ প্রক্রিয়া ভালো ছিলো কিন্তু এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘবের পরিবর্তে বেড়েছে। তাছাড়া প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থী আমরা পাচ্ছি না। বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দিক থেকে এগিয়ে গেলেও এদিকে আমরা পিছায়ে যাচ্ছি। সেশনজটও তৈরি হচ্ছে। গুচ্ছ থেকে বের হয়ে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ফিরতে হবে।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড.আইনুল ইসলাম বলেন, প্রথমবার গুচ্ছে অনেক ত্রুটি ছিলো কিন্তু সেগুলো সংশোধন করার কথা ছিলো কিন্তু তা হয় নি। এর আগে আমাদের শর্তও ছিলো সেগুলোও মানা হয়নি। গুচ্ছে কোন লাভ হচ্ছে না। বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ক্ষুন্ন হচ্ছে।
এর আগে গত বছর তৃতীয় সাধারণ সভায় গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বের হবার দাবি জানান শিক্ষক সমিতি। এসময় শিক্ষকরা দশ দফা দাবি উত্থাপন করেন উপাচার্যের নিকট। এদাবি না মেনেই শুরু হয় এবারের ভর্তি পরীক্ষা।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) বিভিন্ন অনুষদে মোট ১৯২ আসন ফাঁকা রেখেই ক্লাস শুরু হয়েছে আজ রোববার। নয়টি মেরিট লিস্ট প্রকাশ করেও কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার্থী না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপকসহ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞান অনুষদে ১৬৯ টি, কলা অনুষদে ২১ টি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ২ টি আসন ফাঁকা রেখে নবম মেরিট লিস্ট প্রকাশ করা হয়। এসব অনুষদভুক্ত ডিনরা জানান প্রতিনিয়ত ভর্তি বাতিল করে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাওয়ায় একের পর এক মেরিট লিস্ট প্রকাশ করেও আসন পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।