ঢাকারবিবার , ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
  1. অপরাধ,দূর্নীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ক্যাম্পাস
  4. খেলাধুলা
  5. গ্রামবাংলা
  6. জাতীয়
  7. ফিচার
  8. বিনোদন
  9. মুক্তমত
  10. রকমারি
  11. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দখল হয়ে যাচ্ছে কবির নামে প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারের জমি! ধ্বংসের পথে কবির স্মৃতিচিহ্ন

অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ ৪:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে প্রভাবশালীদের দখলে কবি শেখ ফজলল করিম পাঠাগারের জায়গা, ঘর নির্মাণ, বাউন্ডারীর একাংশে ও মেইন ফটকে দু’দিকের জায়গা দখল করে নিয়েছে অবৈধ্য স্থাপনা নির্মান করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
‘কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক/কে বলে তা বহুদূর/ মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক/ মানুষেতে সুরাসুর’- অযত্ন আর অবহেলায় ধ্বংস হতে চলেছে কবি শেখ ফজলল করিম এর অবশিষ্ট স্মৃতিচিহ্ন।
দিনে দিনে দখল হয়ে যাচ্ছে কবির নামে প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারের জমি, পাঠাগারের প্রবেশ পথেই খুলে বসেছে দোকান-পাট। প্রভাব খাটিয়ে তারা দখল ধরে রেখেছেন।
পাকা দোকানপাট, বানিয়েও দখলে নেয়া হচ্ছে। প্রভাবশালীদের টনক নড়ানো যাচ্ছে না কোনোভাবেই। দখলদারের কারণে কবির স্মৃতিচিহ্ন টিকিয়ে রাখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার কাকিনায় কবি শেখ ফজলুল করিমের স্মৃতি বিজড়িত গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কবির বাড়িটি তার অতীত ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।
বাড়িতে প্রবেশের পর দেখা যায়, কবির কবরের ঠিক সামনেই বিরাট এক কাচারি ঘর। প্রশস্ত বারান্দায় সৌখিন কাঠের কারুকাজ। কাচারি ঘরের চালজুড়ে মনোহরী ফুলের বাগান। নজরকাড়া এ বিশাল ঘরটিতেই কেটেছে কবির জীবন।
ভেতরে ঢুকে দেখা যায় অযত্ন আর অবহেলায় ঘরের দরজা ও চৌকাঠের ভগ্নদশা। সৌখিন কারুকাজ করা কাঠগুলো উইপোকার অত্যাচারে খসে খসে পড়ছে। ঘরের ভেতরে কাঠের দেয়ালজুড়ে কবির বেশ বড় দুটি ছবি টাঙানো।
ভেতরে আরো রয়েছে কবির ব্যবহৃত একটি জীর্ণ চেয়ার, খাট ও একটি গ্রামোফোন। ঘরটির এক কোণে একটি কাচের শোকেস।
শোকেসের কাচগুলো ফেটে চৌচির। তার ভেতরে অযত্নে পড়ে আছে কবির ব্যবহৃত টুপি, দোয়াত-কলম, ছোট্ট কোরআন শরীফ, ম্যাগনিফাইং গ্লাস ও কিছু বোতাম। কিন্তু কবির অমূল্য এ স্মৃতি রক্ষায় নেই কোনো উদ্যোগ।
এছাড়া ঘরের মেঝেতেও সিমেন্টের প্রলেপ উঠে ছোট ছোট অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
কবি বাড়ির বর্তমান রক্ষক কবির প্রপৌত্র ওয়াহিদুন্নবী বলেন, কবির স্মৃতি ধরে রাখতে চেষ্টা করছি। কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় সংস্কার করতে পারছি না। দীর্ঘদিন এমনি পড়ে থাকায় কবির ব্যবহৃত জিনিসগুলো নষ্ট হতে চলেছে।
সাহিত্য চর্চার সুবিধার্থে স্থানীয় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত কবি বাড়িতে ১৮৯৬ সালে করিমস্ আহামদিয়া লাইব্রেরি নামে একটি পাঠাগার স্থাপন করেছিলেন কবি। এখন তার কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট নেই।
জীবদ্দশায় সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন কবি শেখ ফজলল করিম। তিনি মোট ৫৫টি গ্রন্থ লিখেছিলেন। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে যার অনেকগুলোরই এখন আর হদিস মেলেনা।
২০০৫ সালে গ্রামের বাজারে কবির নামে প্রতিষ্ঠিত হয় ফজলল করিম স্মৃতি পাঠাগার। কিন্তু এখন এর কার্যক্রম
নেই বললেই চলে। সম্প্রতি পাঠাগারের প্রবেশ পথের সামনে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ জমে উঠেছে। ‍এছাড়া একটি প্রভাবশালী চক্র ইতোমধ্যে পাঠাগারের প্রবেশপথের কিছু অংশ দখলে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা সদরে কবির নামে একটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ছাড়া জেলার অন্য কোথাও তার জন্ম বা মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয় না। তার নামে জেলার তেমন কোনো স্থাপনাও তৈরি করা হয়নি। ফলে এ প্রজন্মের অনেকেই
জানে না কবি শেখ ফজলল করিম জীবনী সম্পর্কে।
তবে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের পাশে কাকিনায় কবির স্মৃতির উদ্দেশ্যে ছোট্ট একটি স্মৃতিফলক রয়েছে। যা কবির বাড়ির দিক নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
১৮৮২ সালের ১৪ এপ্রিল তৎকালীন কালীগঞ্জের কাকিনা গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে কবির জন্ম। মাত্র ১৩ বছর বয়সে পার্শ্ববর্তী বিনবিনা গ্রামের গনি মোহাম্মদ সর্দারের মেয়ে বসিরন নেছা খাতুনের সঙ্গে বিয়ে হয় কবির।
কাকিনার মতো অজোপাঁড়াগায়ে নিজ বাড়িতে শাহাবিয়া প্রিন্টিং ওয়ার্কস নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন কবি। তার বৈচিত্র্যময় রচনায় ফুটে উঠেছে সমসাময়িক ঘটনা, চিন্তা-চেতনা, ধর্ম-দর্শন, সাম্প্রদায়িক বিরোধ, সমাজ-সংস্কার, নারী শিক্ষাসহ সমাজ পরিবর্তন ও মননশীলতা অঙ্গীকার।
উপদেশমূলক রচনা ‘পথ ও পাথেয়’ গ্রন্থের জন্য কবি পেয়েছিলেন রৌপ্য পদক। পরবর্তীতে বাংলা ১৩২৩ সনে ভারতের নদীয়া সাহিত্য পরিষদ তাকে সাহিত্য বিশারদ উপাধিতে ভূষিত করে।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে তৃষ্ণা (১৯০০), পরিত্রাণ কাব্য (১৯০৪), ভগ্নবীণা বা ইসলাম চিত্র (১৯০৪), ভুক্তি পুষ্পাঞ্জলি (১৯১১), উপন্যাস লাইলী-মজনু, শিশুতোষ সাহিত্য হারুন-আর-রশিদের গল্প, নীতিকথা চিন্তার চাষ, ধর্মবিষয়ক পথ ও পাথেয় প্রভৃতি অন্যতম।
১৯৩৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবি। এরপর থেকেই অরক্ষিত হয়ে পড়ে কবি শেখ ফজলুল করিমের স্মৃতিচিহ্ন।
স্থানীয়রা বলছেন, একদিকে দিনে দিনে কবির পাঠাগারের জায়গা দখলে নিচ্ছে, অন্য দিকে কবির স্মৃতিচিহ্ন সংশ্লিষ্ট বিভাগের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের পথে কবির শেষ স্মৃতিচিহ্ন। উচ্ছেদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেও মিলছে না প্রতিকার।
বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মান্নান জানান, বিষয় টি আমাদের কেউ জানায় নাই,তবে কেউ যদি পাঠাগারের জায়গা নিজের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে তবে সেটা উদ্ধারে দ্রুতই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এই সাইটে প্রতিনিধির পাঠানো নিজস্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।