ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০২০
  1. অপরাধ,দূর্নীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ক্যাম্পাস
  4. খেলাধুলা
  5. গ্রামবাংলা
  6. জাতীয়
  7. ফিচার
  8. বিনোদন
  9. মুক্তমত
  10. রকমারি
  11. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভালো বিতার্কিক হওয়ার আগে একজন মানবিক মানুষ হওয়া জরুরী- মাহবুব হাসান রিপন

অনলাইন ডেস্ক
ডিসেম্বর ১৭, ২০২০ ১:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সরকারি তিতুমীর কলেজ বিতর্ক ক্লাব (জিটিসি-ডিসি),  তিতুমীর কলেজের সর্ব প্রথম সামাজিক-বুদ্ধিভিত্তিক সংগঠন।  ২০১৭ সালের মার্চের দিকে প্রতিষ্ঠিত হয় ৬০ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য বিতর্ক চর্চার এই প্লাটফর্ম। খুব অল্প সময়েই ক্লাব টি জাতীয় পর্যায়ে ও বেশ খ্যাতি অর্জন করে। ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন এবং বর্তমান সভাপতি মাহবুব হাসান রিপন,দেশ সেরা বিতর্ক নির্দেশক,প্রশিক্ষক এবং বিতর্কের মেন্টর। যিনি একই সাথে ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক,  এবং ২৩ তম জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতার শ্রেষ্ঠ বক্তা, শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক(ঢাকা মহানগর)জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৮, ও এনডিএফ বিডি কোর ১.০ জাতীয় সংসদীয় বিতর্ক প্রতিযোগীতার ফাইনালিস্ট। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় ক্যাম্পাসে বিতর্ক ক্লাব প্রতিষ্ঠা পায়। এবং ক্লাবকে সর্বোচ্ছ সফলতার ধারপ্রান্তে এনে দিয়েছেন এই মানুষ টি। আজকে তার সাথেই কথা বলছেন দৈনিক মুক্তি’র তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি, ‘মোহাম্মদ রায়হান ‘ –
দৈনিক মুক্তি- বিতর্ক ক্লাব প্রতিষ্ঠার চিন্তা মাথায় আসলো কি করে?
মাহবুব হাসান রিপন- ২০১৫ সালে প্রথমদিন ক্লাস করতে এসে আমি পুরো ক্যাম্পাসে কেবল একটাই সাইনবোর্ড খুঁজছিলাম। সেটা হলো বিতর্ক ক্লাবের।  কিন্তু খুঁজে পেলাম না,  অনেককে জিজ্ঞেস করলাম কেউ কিছু বলতে পারছে না।  একসময় নিশ্চিত হলাম এখানে স্কাউট, বিএনসিসি, বাঁধনেরমত জাতীয় সংগঠনের শাখা ব্যতীত কোন ক্লাব বা সংগঠন নেই।  তখনই মূলত আমি বিতর্ক ক্লাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেই।   এই ধরনের ক্লাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের মূলে ছিলো শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে কাজ করা।  আমি যে হতাশা নিয়ে তিতুমীর কলেজে ভর্তি হয়েছি সেই হতাশা নিয়ে আরও অনেকে ভর্তি হবে তারা যেন নিজেদের প্রমাণের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম পায়।
দৈনিক মুক্তি – ক্লাব প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে কেমন সাড়া পান?
মাহবুব হাসান রিপন –  বিতর্ক ক্লাব প্রতিষ্ঠা করাটা তিতুমীর কলেজের জন্য ভীষণ চ্যালেঞ্জিং ছিলো মূলত সেই সময়ে।  আমাকে প্রচুর হোমওয়ার্ক করতে হয়েছে।   প্রথমদিকে হাসনাইন,ফারজানা নূর বৃষ্টিকে পেয়েছি।  এই দুজনকে নিয়ে পুরো কলেজ আমরা কাউন্সিল করেছিলাম।  ক্লাবে কারা যুক্ত হতে চায়,তারপর তালিকা তৈরী করি, যেখান থেকে প্রায় ৫০০ জনের নামের তালিকা পাই।  এদের মধ্যে তখন অনেকে সরাসরি কাজ করতে শুরু করলেন আমার সাথে মার্কেটিং বিভাগের রাশিদুল ইসলাম রাশিদ তার মাধ্যমে হাসানুল করিম সাকির,  জাবেদ ইকবাল সহ আরও অনেককে পেয়েছিলাম।  অর্থনীতি বিভাগের আব্দুল কাইয়ূম ভাই ছিলেন,  পদার্থ বিদ্যা থেকে অয়ন ছিলেন ।  এভাবে আমরা একটি ভালো টিম পাই।  এরপর আমাদের একটি বড় সংগ্রাম করছে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেতে। শিক্ষক হিসেবে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর কামরুন্নাহার ম্যাম,  এবং সহকারী অধ্যাপক হুমায়রা আক্তার ম্যাম এবং জাফর স্যার আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করেন।
দৈনিক মুক্তি – ক্লাব প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নে নিশ্চয়ই অনেক প্রতিবন্ধকতার স্বীকার হয়েছেন? এসব থেকে উত্তরণ ও হয়েছেন স্বার্থক ভাবে। তাহলে এসব প্রতিবন্ধকতার অবিজ্ঞতার আলোকে নবীন সংগঠকদের প্রতি আপনার উপদেশ কি হবে?
মাহবুব হাসান রিপন- আমার কাছে মনেহয়,  একটি সংগঠন ভালোভাবে পরিচালিত করতে গেলে কতগুলো বিষয় খুব সুক্ষ্মভাবে লক্ষ্য রাখতে হয়৷ তারমধ্যে অন্যতম কিছু দিক হলো – ১। সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য,  সংগঠন কিভাবে পরিচালিত হবে তার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা,  সংগঠনের সদস্য কারা হবে?  এবং কেন হবে?  ইত্যাদি।  একই সাথে যারা সংগঠনের নেতৃত্ব দিবেন তাদের অনেকবেশি ভিশনারীজ হতে হয়। একই সাথে কাজের ক্ষেত্রে একাগ্রতা ও নিষ্ঠাবান হতে হয় এবং অন্যকে অনুপ্রাণিত করার সক্ষমতা থাকতে হয়।  নতুন উদ্যোক্তাদের এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরী।  এবং একটি কাজে যথাসম্ভব লেগে থাকতে হয়।
দৈনিক মুক্তি – আগামী পাঁচ বছর পরে ক্লাবকে আপনি কোন পর্যায়ে দেখতে চান?
মাহবুব হাসান রিপন-  আমি আসলে হুট করে কিছু দেখতে চাই না। আমি কতগুলো ধাপে ক্লাবের কাজগুলো ভাগ করে রেখেছিলাম। এবং একেকটি ধাপ ছিলো আমার কাছে একেকটি স্বপ্ন।
যেমন ২০১৫ সালে যখন ক্লাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিই তখন প্রথম লক্ষ্য ছিলো ক্লাবকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা । এরপর লক্ষ্য ছিলো যারা আমার সাথে বিতর্ক ক্লাবে কাজ করছে তাদের বিতর্ক শেখানো সেটাও করতে হয়েছে বেশ কয়েকটি ধাপে।  পরের স্বপ্ন ছিলো তিতুমীর কলেজের বাহিরে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা। সেটিও আমরা করেছি ২০১৭ সাল থেকেই।  এরপর স্বপ্ন ছিলো আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন, জাতীয় টেলিভিশন বিতর্কে অংশগ্রহণ করা,  একটি জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করার। সেগুলোও আমরা পূরণ করেছি । এভাবে বর্তমানে সারা বাংলাদেশে একটি সমৃদ্ধ বিতর্ক ক্লাব হিসেবে সরকারি তিতুমীর কলেজ বিতর্ক ক্লাব জায়গা করে নিয়েছে।  আগামী ৫ বছর পর যারা নেতৃত্বে আসবেন তাদের মূল দায়িত্ব হবে এই জায়গুলো ধরে রেখে ক্লাবকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
দৈনিক মুক্তি – বলার মতো সফলতা গুলো কি কি?
মাহবুব হাসান রিপন- বিতর্কে আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য ২৩ তম জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ১ম রাউন্ডে জয়ী হওয়া।  দুঃখজনক যে প্রতিযোগিতা করোনার কারণে সম্পূর্ণ হতে পারেনি।  সাংগঠনিকভাবে আমাদের বড় সাফল্য দেশের সবচেয়ে বড় আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেখানে ২২টি বিভাগ থেকে ৪৪টি বিতর্ক দল,  ১০০ জনের বেশি বারোয়ারি বিতর্কে অংশগ্রহণ,  ৩৫টি কুইজ টিম এবং টানা ৪ দিনের বৃহৎ একটি আয়োজন৷ যেটি অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে৷বিতর্ক ক্লাবকে আমরা শুধুমাত্র একটি বিতর্কের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কখনোই দেখিনি।  বিতর্কের বাহিরে একটি মানবিক সংগঠন হিসেবে আমরা ক্যাম্পাসের যেকোনো সমস্যায় অগ্রনী ভূমিকা রাখতে চেয়েছি।আমাদের মানবিক কাজে বড় প্রাপ্তি, ক্যান্সারে আক্রান্ত আমাদের বোন সাদিয়ার চিকিৎসার অর্থ জোগাড়ের জন্য বাসা থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে এসে ক্যাম্পাসে বিক্রি করা।
দৈনিক মুক্তি- ক্লাব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিজেকে একজন সফল সংগঠক মনে করেন?
মাহবুব হাসান রিপন – আমি সফল সংগঠক কি না  এর মূল্যায়ন  করবেন ক্লাবের সদস্য বা তিতুমীর কলেজের যারা এই বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত তারা।   আমি শুধু একটা অচলায়তনটা দুমড়ে মুচড়ে দিতে চেয়েছি৷
দৈনিক মুক্তি- তরুন বিতার্কিক দের থেকে কি আশা করেন?
মাহবুব হাসান রিপন– আমি সবসময় বলি একজন ভালো বিতার্কিক হওয়ার আগে একজন মানবিক মানুষ হওয়া জরুরী।  সেইক্ষেত্রে তরুণ বিতার্কিকদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে তারা যেন একজন মানবিক মানুষ হতে পারেন। একই সাথে বিতর্কের যে শুদ্ধতা সেটি তারা কাজে লাগিয়ে নিজের সমৃদ্ধ করতে পারেন এবং পরিবার, সংগঠন ও দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারেন।
দৈনিক মুক্তি- অসংখ্য ধন্যবাদ। 
মাহবুব হাসান রিপন – আপনাকেও ধন্যবাদ।

এই সাইটে প্রতিনিধির পাঠানো নিজস্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।