ঢাকারবিবার , ৬ নভেম্বর ২০২২
  1. অপরাধ,দূর্নীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. কৃষি সংবাদ
  4. ক্যাম্পাস
  5. খেলাধুলা
  6. গ্রামবাংলা
  7. জাতীয়
  8. ধর্ম,সাহিত্য
  9. ফিচার
  10. ফেসবুক কর্নার
  11. বিনোদন
  12. মুক্তমত
  13. রকমারি
  14. রাজনীতি
  15. লাইফস্টাইল
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মহাদেবপুর জমিদার বাড়ির ইতিহাস

অনলাইন ডেস্ক
নভেম্বর ৬, ২০২২ ৭:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোসফিকা আক্তার নওগাঁ জেলা প্রতিনিধঃ
মহাদেবপুর জমিদার বাড়িটি নওগাঁ জেলা সদর থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার পশ্চিমে মহাদেবপুর উপজেলায় অবস্থিত। জমিদার বাড়িটি আত্রাই নদীর তীরবর্তী স্থানে অবস্থিত। মহাদেবপুরের জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজ পাশেই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।
ইতিহাস
জনশ্রুতি আছে, মুগল আমলে সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে (১৬০৫-১৬২৭) মহাদেবপুর জমিদারির উদ্ভব হয়। নয়নচন্দ্র রায় চৌধুরী ছিলেন এ জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর আদি নিবাস ছিল বর্ধমানে।
মুগলদের বাংলা বিজয়ে সহযোগিতা করার জন্য তাঁর উত্তরাধিকারী বীরেশ্বর রায় চৌধুরী সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে পুরস্কার স্বরূপ পরগণা জাহাঙ্গীরাবাদের জায়গির লাভ করেন। এ জায়গিরই পরবর্তী সময়ে বিশাল মহাদেবপুর জমিদারিতে পরিণত হয় এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারেই মহাদেবপুরের আরেক নামকরণ হয় জাহাঙ্গীরপুর।
নয়নচন্দ্র রায় চৌধুরীর উত্তরাধিকারী বীরেশ্বর রায় চৌধুরী জমিদারি পরিচালনায় বিশেষ প্রসিদ্ধি অর্জন করেছিলেন। জনকল্যাণার্থে তিনি তাঁর জমিদারি এলাকায় বহু মন্দির নির্মাণ ও পুকুর খনন করেন। বীরেশ্বর রায় চৌধুরীর মৃত্যুর পর এ জমিদারি তাঁর চার পুত্র ও পিতৃব্য পুত্র (cousin) লক্ষ্মীকান্ত রায় চৌধুরীর মধ্যে ভাগাভাগি হয়।
লক্ষ্মীকান্ত রায় চৌধুরীর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ব্রজনাথ রায় চৌধুরী জমিদারির উত্তরাধিকারী হন।
ব্রজনাথ রায় চৌধুরী তাঁর জীবদ্দশায় দু’পুত্র দুর্গানাথ রায় চৌধুরী ও গোবিন্দনাথ রায় চৌধুরীর মধ্যে এস্টেট সমানভাগে ভাগ করে দেন। গোবিন্দনাথ একজন প্রভাবশালী, দয়ালু ও শিক্ষিত জমিদার ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র শ্যামনাথ রায় চৌধুরী পরবর্তী জমিদার নিযুক্ত হন।
শ্যামনাথ রায় চৌধুরীও একজন প্রজাবৎসল জমিদার ছিলেন। তিনি মহাদেবপুরে একটি বিদ্যালয় ও একটি চিকিৎসালয় স্থাপন করেন। এ দুটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় তিনি প্রতি মাসে নিয়মিত আর্থিক অনুদান প্রদান করতেন
এ ছাড়া তিনি দিনাজপুরে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি মোটা অংকের অর্থ এবং ১৮৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে ১৫,০০০ হাজারেরও বেশি টাকা দান করেন। ২৪ বছর বয়সে ১৮৭৮ সালে তিনি মারা যান। মহাদেবপুর জমিদার বংশের শেষ জমিদার ছিলেন বড়তরফের ক্ষিতিশচন্দ্র রায় চৌধুরী এবং ছোটতরফের রায়বাহাদুর নারায়ণচন্দ্র রায় চৌধুরী ।
১৯২১ সালে তিনি মহাদেবপুরে মাতা সর্বমঙ্গলাদেবীর নামে একটি উচ্চ বিদ্যালয় (হাইস্কুল) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫০ সালে পূর্ব বাংলা জমিদারি উচ্ছেদ আইনে এ জমিদারির বিলুপ্তি ঘটে।
পরে ১৯৬৭ সালে মহাদেবপুর রাজবাড়িতে জাহাঙ্গীরপুর কলেজ স্থাপিত হয় যা বর্তমানে সরকারি কলেজে রূপান্তরিত হয়েছে।
মহাদেবপুর জমিদারির শেষ জমিদার ক্ষিতিশচন্দ্র রায় চৌধুরী জমিদার বাড়িটির কিছু অংশ জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য দান করেন। বর্তমানে জমিদার বাড়ির মূল প্রবেশপথ এবং কিছু জমি জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজের প্রাঙ্গন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাড়িটিতে একটি বিশাল প্রবেশদ্বার, বসবাসের জন্য দ্বিতল বিশিষ্ট ভবন, একটি কাছারিঘর ও বাগানবাড়ি আছে।
বর্তমান অবস্থা
জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর অনেকদিন ধরে কোনো সংস্কার না করার কারণে জমিদার বাড়ির কিছু কিছু অংশ ভেঙ্গে যায়। বর্তমানে জমিদার বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দেয়ালে শ্যাওলা ও লতাপাতায় জরাজীর্ণ হয়ে রয়েছে।

এই সাইটে প্রতিনিধির পাঠানো নিজস্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।