মুর্খরা দেশ চালাতে পারলে সাংবাদিকতায় স্নাতক পাশ নির্ধারন কেন


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২৪, ২০২৩, ২:৩৪ অপরাহ্ণ /
মুর্খরা দেশ চালাতে পারলে সাংবাদিকতায় স্নাতক পাশ নির্ধারন কেন

সাংবাদিকদের “স্নাতক পাশ” নির্ধাৱন কেন ? মূর্খরা যদি দেশ চালাতে পারে তাহলে সাংবাদিকতা করা যাবেনা কেন? এমন একটি লেখা লালমনিরহাট জেলার দৈনিক গড়ব বাংলাদেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি রশিদুল ইসলাম রিপন তার নিজস্ব ফেসবুক টাইম লাইনে (https://www.facebook.com/mdroshidulislam.ripon.9?mibextid=ZbWKwL) পোস্ট করেছেন। লেখাটি হুবহু দেয়া হলো।

দীর্ঘদিন হলো আমাদের দেশে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না ৷

নুন্যতম স্ব শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই যদি দেশ পরিচালনা করাৱ যোগ্যতা বলে বিবেচ্য হয়, তাহলে সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে স্নাতক পাশ শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধাৱন কেন ?

সাম্প্রতিককালে,
পিআইবি কর্তৃপক্ষ দেশের সকল জেলা প্রশাসকদের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন সাংবাদিক হিসাবে নিবন্ধন করতে, ১২ বছর কাজের অভিজ্ঞতা আর স্নাতক পাশ হতে হবে৷
সত্যিই তো সাংবাদিকতায় অর্ধশিক্ষিত মানুষ কেন সাংবাদিক হিসাবে কাজ করে খাবে? ভাবার বিষয়, চিন্তা করার মতই কথা।

খুবই ভাল এবং মহৎ উদ্যোগ সাধুবাদ জানাই। হাততালি পেতেই পারেন পিআইবি কর্তৃপক্ষ। এমনটি আজকের এই বিকশিত শিক্ষিত যুগে কেন অর্ধশিক্ষিত মানুষ এই মহৎ পেশায় আসবেন। স্নাতক না হলে সাংবাদিকতা করা যাবেনা,একমত হলাম আমরা

কিন্তু আমাদের কিছু জিজ্ঞাসা আছে কর্তৃপক্ষের কাছে।

জাতীয় সংসদে, আমরা আর দেখতে চাইনা, একাডেমিক সার্টিফিকেটবিহীন নুন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্ব-শিক্ষায় শিক্ষিত আইন প্রণেতাদের, ।

গণতন্ত্র মানেই যদি মূর্খের রাজনীতি না হয়, তাহলে সবার আগে নিবন্ধন দরকার জাতীয় সংসদের সদস্যদের।

সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখার আগে দেশের প্রতিটা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে, সংসদ সদস্য পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা গ্রাজুয়েশন নির্ধারণ করা দরকার। তা না হলে সঠিক গণতন্ত্র কখনো ফিরে আসবে না।

আর, তথ্য মন্ত্রনালয়, শুধুমাত্র সাংবাদিকদের শিক্ষাগতযোগ্যতা নির্ধারণ করে যদি, দেশের গণতন্ত্র উদ্ধার করতে চান. তাহলে সেটা ভিন্ন কথা।

একজন সাংবাদিক শুধু সাংবাদিকই নয় একজন ভালো মানের লেখকও বটে। যার যোগ্যতা তাঁর লেখার মাধ্যমেই ফুটে ওটে। একজন সাংবাদিক যথাযথ গবেষণালব্ধ তথ্য, লেখনী এবং প্রতিবেদন রচনা করে তিনি গণমাধ্যমে উপস্থাপন করেন।

মুদ্রিত মাধ্যমরূপে সংবাদপত্র, সাময়িকী, ইলেকট্রনিক মাধ্যম হিসেবে টেলিভিশন, রেডিও, এবং ডিজিটাল মাধ্যমরূপে অনলাইন সাংবাদিকতায় নিজস্ব সংবাদ প্রচার কিংবা নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গীতে নিরপেক্ষভাবে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে থাকেন।

একজন প্রতিবেদক তৃণমূল পর্যায় থেকে তথ্যের উৎসমূল অনুসন্ধান করেন, প্রয়োজনে সাক্ষাৎকার পর্ব গ্রহণ করেন, গবেষণায় সংশ্লিষ্ট থাকেন এবং অবশেষে প্রতিবেদন প্রণয়নে অগ্রসর হন।

পিআইবি’র মহাপরিচালক বলেছেন, নতুন সাংবাদিক হতে নুন্যতম স্নাতক পাশ এবং যারা সাংবাদিকতার সাথে ১২ বছর যুক্ত আছেন, তারাই সাংবাদিক হিসেবে নিবন্ধন করতে পারবেন।

এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় কয়টি করে প্রেসক্লাব বা সাংবাদিকদের সংগঠন আছে তার তালিকা চেয়ে জেলা প্রশাসকদের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। পরবর্তিতে হয়তো কর্মরত সাংবাদিকদের তালিকা চেয়েও চিঠি দিতে পারেন পিআইবি কর্তৃপক্ষ।

অব্যশই জেলা প্রশাসনসহ পিআইবি’র কাছে জেলা সদর অথবা উপজেলায় কোন সাংবাদিক কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তার সঠিক তথ্য থাকা দরকার। এতে উভয়েরই সুবিধা।

আগে আমরা জানতাম সংসদ সদস্যগন সব ধরনের আইন প্রণয়ন করেন। বড় হয়ে দেখছি তারা সব পারেন এবং করেন– আইন প্রণয়ন করতে আবার লেখাপড়া জানার দরকার কি, শিক্ষা দরকার কি? দল থেকে মার্কা পাবো তারপর মার্কা দিয়ে জিতেই ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ৩০০ জন ভি.ভি.আইপি হয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি, বাড়ি, তারপর বড় বড় সুযোগ সুবিধা নামে-বেনামে পাহাড়তুল্য সম্পদের মালিক সাথে সাথে আরও কতো সুযোগ সুবিধা।

যুগের সাথে আমরা সাংবাদিকরাও আজ সবকিছুর পরিবর্তন চাই, শিক্ষিত সাংবাদিক চাই, তাহলে হলুদ সাংবাদিকতা কমে যাবে- তবে সবার আগে চাই প্রতিটি দেশের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য পর্যন্ত গ্রাজুয়েশন নির্ধারণ করুন, আমরাও চাই রাজনৈতিক দলগুলোতে শিক্ষিত রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করুক ।

শুধু আইন প্রণেতা হয়ে সংসংদে হাততালি আর হাত তুলুন, ‘হ্যাঁ’ বলুন আর ‘না’ বলুন, এটাই যদি তাদের আসল যোগ্যতা হয় তা হলে কিছু বলার নেই।আমরা দেখতে চাই , সাংবাদিকদের শিক্ষাগতযোগ্যতা নির্ধারণ করার পাশাপাশি-

সংসদ সদস্যদেৱ জন্যেও শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধাৱন করা হউক!আমরাও দেখতে চাইনা, জাতীয় সংসদের মত মহান পবিত্র জায়গায় একাডেমিক সার্টিফিকেটবিহীন ,স্ব-শিক্ষায় শিক্ষিত আইন প্রণেতাদের।