আমার লেখাপড়ার গল্প 


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২২, ২০২৪, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ /
  আমার লেখাপড়ার গল্প 

  আমার লেখাপড়ার গল্প 

               মোঃসিরাজুল ইসলাম

             

        ১৯৮২ সালঃ 

আমার জীবনের Tarning Point. আমি একদিন আমাদের বাড়ীর জায়গাতেই অবস্থিত ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকটের একটি খাল থেকে ঝাঁকি/ কুনি জাল দিয়ে মাছ ধরতেছিলাম

  সময় পাশে কয়েকটি ছোট ছেলেমেয়ে হৈ চৈ করতেছিলো। আমার গ্রামের পাশেরই পৈরাংকুল গ্রামের মুজিব চৌধুরীর বাড়ীর জনাব মোঃ ফছিউদ্দিন চৌধুরী নামের মহান এক শিক্ষক স্কুলে ক্লাস নিচ্ছিলেন। ছোট ছেলেমেয়েদের হৈ চৈ এর কারণে স্যারের ক্লাসে Disturb হচ্ছিলো। ক্লাস থেকে বের হয়ে স্যার আড় চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন– ” এখানে কে রে? ” আমার ছোট ভাই দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাসে ছিলো। সে বলেছিলোআমার বড় ভাই-‘ সিরাজ আমি তখন ভয় পেয়ে বাড়ী চলে যাই। 

 ছোট ভাই মোসলেহ উদ্দিন বাড়ী গিয়ে আমাকে বলেছিলো, স্যার বলেছেনআগামী দিন স্কুলে যেতে আমার ভয় আরো বেড়ে গেলো। কিন্তু আশাও ছিলো। 

স্যার আমাকে স্কুলে যেতে বলেছেন। আমার ধারণা, হয়তো বা মহান আল্লাহ আমাকে লেখা পড়ার জন্য কবুল করেছেন

       ছোটবেলা থেকেই আমি  মাবাবা, শিক্ষক শিক্ষিকা মুরব্বীদেরকে শ্রদ্ধা করতাম। সালাম দিতাম। মানতাম। ডাক দিলে শুনতাম। ছোটদেরকে স্নেহ আদর করতাম। যদিও জনাব ফছিউদ্দিন চৌধুরী সাহেব আমার স্যার নয় তবুও ভয় আশা নিয়ে পরের দিন যথা সময়ে ছোট ভাইয়ের সাথে স্কুলে গিয়ে উপস্থিত হই। স্যারের সামনে গিয়ে সালাম দেওয়ার পরই স্যার বলেন– ‘ সিরাজআজ থেকে তুই মোসলেমের সাথে স্কুলে পড়বি। সেদিন আমি যে কত খুশি হয়েছিলাম একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন

        শুরু হলো Class Two থেকে লেখাপড়া (রোল নং ৩৬)  আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার একমাত্র পথ হচ্ছে নামাজ। মোল্লা বাড়ীর ছেলে হওয়ায় লেখা পড়া শুরু করার পূর্বেই নামাজে অভ্যস্ত হয়ে যাই। কোন দিন যদি নামাজ পড়ার ইচ্ছা না হতো ফজরের সময় ঘর থেকে বের হয়ে গিয়ে বাইরে সময় কাটিয়ে এসে আবার ঘুমাতে হতো। ফজরের সময় কোনো দিনও ঘরে শুয়ে থাকা যেতো  না। ব্যাপারে মা ছিলেন কঠোর। বড় বোন আনোয়ারা বেগমও। সব কিছুতে ছাড় ছিলো, নামাজে না। 

যদিও মাবাবা অশিক্ষিত ছিলেন। ধরণের মা

বাবাকে অশিক্ষিত বলা যায় না/ উচিত নয়। ওরাই সত্যিকারের শিক্ষিত। যারা সত্যকে জানে এবং মানে তারাই সত্যিকারের শিক্ষিত। আর যারা সত্যকে জানার পরও মানে না, মিথ্যা ছাড়ে না তারাই অশিক্ষিত, মূর্খ। এখন তাদের রাজত্বই চলছে। 

        প্রথম বছর ছোট ভাইয়ের সাথে মিলে মিশে পরীক্ষা দিয়ে ৩য় শ্রেণিতে ১৮ নম্বর হই। গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়তে লাগলাম। ৪র্থ শ্রেণীতে নম্বর। ৫ম শ্রেণিতে ৩৪ জনের মধ্যে প্রথম। ছোট ভাইয়ের একটু পড়লেই হতো। এশার নামাজ পড়ার পর খাওয়ার পালা। খাওয়ার পর সকলেই ঘুমিয়ে যেতো। আমি ঘুমাতে যেতাম না। মা বলতেন এতো কেরোসিন তেল নেই ( সময় আমরা কেরোসিনের বাতি জ্বালিয়ে লেখাপড়া করতাম ) এখন ঘুমিয়ে যাও। আগামী কাল আবার পড়বে। ক্ষেত্রে মার কথা মানতে পাড়তাম না। মা বাধ্য হয়ে আমাকে লেখাপড়া করার সুযোগ দিতেন। মা বলতেনএখন তুমি পেঠ ভরে খাবে না। তুমি যদি বেশি পড়তে চাও তবে আমাদের সাথে এখন এক প্লেট ভাত খেয়ে নাও। তোমার লেখাপড়া শেষ করে ঘুমানোর সময় আরেক প্লেট খেয়ে ঘুমিয়ে যেও

  

       ছোট বেলা থেকেই বাবা অসুস্থ। সহোদর জন। আমাদের চিন্তায় মায়ের ঘুম হয় না। বৈমাত্রেয় ভাই বোনও জন। তারা সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের বেরিবিল গ্রামের বাসিন্দা। তাদের বাড়ীঘর, জমিজমা , দোকানপাঠ সবই আছে। এখনো আমার চাকরিটা ছাড়া কিছুই নেই। 

( আমি কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ১নং বড়শালঘর ইউনিয়নের অন্তর্গত পল্লীর অজপাড়া ভবানীপুর গ্রামে বাস করি। 

  

         ভবানীপুর গ্রাম এখন আর অজপাড়া গাঁ নয়। ইউনিয়নের মধ্যে মডেল। আমাদের গ্রামে আছে কেজি স্কুলের শিক্ষক থেকেবিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন স্বনামধন্য প্রফেসর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন আমার প্রয়াত চাচা প্রফেসর . মোঃ সিরাজুল ইসলাম। 

ঢাকার শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত আছেন আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজ চাচাতো ভাই প্রফেসর . মোঃ  রফিকুল ইসলাম। পশ্চিম পাড়ার মরহুম আব্দুল মালেক সরকারের সুযোগ্য বড় ছেলে শ্রদ্ধাভাজন চাচা মোঃ ইসমাইল সরকার– A S P (অবসরপ্রাপ্ত) আমার আগের Batch এর বড়শালঘর ইউ এম উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯১ সালের First Boy বি সি এস ক্যাডার শ্রদ্ধাভাজন মোঃ মনির ভাই। মনির ভাইয়ের ভাতিজা মোঃ রাসেল বি সি এস ক্যাডার। আমার গ্রামের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি আমাদের গ্রামের পাশেই অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর কামিল মাদরাসার শিক্ষক, বড়শালঘর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সম্মানিত ইমাম, খতিব বক্তা হযরত মাওলানা তাজুল ইসলাম সাহেবের সুযোগ্য বড় ছেলে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার খাড়াতিয়া ফাযিল মাদরাসার সম্মানিত ভাইস প্রেন্সিপাল সংগঠক মাওলানা মুফতি মোঃ আমিনুল ইসলাম। পূর্ব পাড়ার ইতালী প্রবাসী আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন বড় ভাই জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম। আরোও আছেন Top Lavel এর  কয়েকজন পুলিশ অফিসার, ডাক্তার, Engineer সহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ

”  বিশ্বযখন এগিয়ে চলছে

  আমরা কেনো রইবো পিছে?”

    

       সংসারের এই অবস্থা দেখে বৈমাত্রেয় বড় ভাই শুক্কুর মিয়া বাবাকে বললেন, আমি মনাকে নিয়ে যাই (আমার ছোট বেলার ডাক নাম) মা দিতে চান নি। মাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে বাবা আমাকে বড় ভাইয়ের সাথে সিলেট পাঠিয়ে দিলেন। 

        আমার কাজ ছিলো গরু রাখা ( হাওরে/ বিলে), ঘাস কাটা, ধান কাটা, নদীর পাড় থেকে মাছ ভর্তি খলই/ডোলা নিয়ে বাড়ীতে আসা, ভাতিজাভাতিজি কোলে নিয়ে হাটাহাটি করা আরোও কত কি!

         এভাবে চলছে কয়েক বছর। অথচ এই বয়সে আমি লেখাপড়া করার কথা। এরই মধ্যে বাবা ধরাধাম থেকে চলে গেলেন। আমাকে জানানোও হলো না। এই স্মৃতি কি ভুলা যায়? আল্লাহ আমার বাবাকে জান্নাত দান করুন। আমিন

        পরে চলে এলাম মায়ের কাছে। ৩য় শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত কোন দিন ক্লাস Miss করেছি বলে মনে হয় না। তবে পঞ্চম শ্রেণির মতো লেখা পড়া আমার জীবনে করিনি। 

       ” তোমাকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেতেই হবে।

ফছিউদ্দিন চৌধুরী স্যার একথা প্রায়ই বলতেন। আমারও স্বপ্ন ছিলো ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার। আমি যদি বৃত্তি না পেতাম হয়তোবা লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যেতো। 

What is lotted, can not be blotted.(অদৃষ্টের লিখন না যায় খন্ডন) আল্লাহ বড় সহায়

  আমার কয়েকজন প্রিয় শিক্ষক ছিলেন

 তাঁদের মধ্যে প্রাইমারিতে জনাব মোঃ ফছিউদ্দিন চৌধুরী স্যার। (এই মহান শিক্ষক এখন আর জীবিত নেই। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান  করুন), হাইস্কুলে জনাব মোঃ অছিউদ্দিন স্যার (তিনি বড়শালঘর ইউ এম উচ্চ বিদ্যালয়ে আমাকে জীব বিজ্ঞান পড়াতেন। যিনি দেবিদ্বার রেয়াজ উদ্দিন সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। দেশ সেরা শিক্ষক ছিলেন) 

 আমার সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন মুহতারাম ফছিউদ্দীন চৌধুরী স্যার

         কিভাবে লেখাপড়া করে আমি Talentpool বৃত্তি পেলামঃ

  নিয়মিত সময়মতো স্কুলে যাওয়া ছিলো আমার ভালো ফলাফলের প্রধান কারণ। স্কুলের ক্লাসগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে করতাম। না বোঝলে স্যারদের থেকে বোঝে নিতাম। পঞ্চম শ্রেণিতে উঠার পর থেকেই আমার প্রিয় শিক্ষক জনাব মোঃ ফছিউদ্দিন চৌধুরী স্যার আমাদের দুই ভাইকে পুরু এক বছর নিয়মিত প্রাইভেট পড়িয়েছেন। কিন্তু কোনো টাকা নেননি। স্যার বলতেন  আমার বাড়ীঘর, জমিজমা, টাকা, –পয়সা কোনো কিছুরই অভাব নেই। তোদেরকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেতেই হবে। স্যারের কথামতো নিয়মিত লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি। সময় আমি লেখাপড়া ছাড়া আর কিছুই বুঝতাম না। শুধু পড়া আর পড়া। বেশি বেশি না পড়লে আমার ভালো লাগতো না

       প্রায় দিনই ভোর সকালে মাছ ধরার জন্য আমার শ্রদ্ধাভাজন বড় ভাই জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা মইয়া জাল নিয়ে  আগেভাগে পানিতে নেমে থাকতেন। আমি কান্নাকাটি করতাম। আমার লেখাপড়ার ক্ষতি হবে, মাছ ধরতে যেতে চাইতাম না। ভাই এতো চাপাচাপি করতেন না। 

      কিন্তু মা বলতেন – ” যাও বাবা, খাবে কি?” 

অবশেষে মাছ ধার পরো লেখাপড়া করতে বসতাম। মাছ ধরা ছাড়াও অনেক কাজ ছিলো। গরুর ঘাস কাটা, বাজারে মাছ, গরুর দুধ, শাখসব্জি বিক্রি করা। ( ৫ম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুল বন্ধের দিন টাকা রোজে কাজ করেছি। হাইস্কুল কলেজ জীবন প্রায় পুরোটাই অন্যের বাড়ীতে লজিং থেকে কাটিয়েছি।) 

     হাসের ডিম মা বাড়িতেই বিক্রি করে ফেলতেন

 মনে আছে, তখন হাসের ডিমের কুড়ি ছিলো ১২/১৪/

১৬/১৮/২০/ ২২ টাকা। অথচ এখন একটি হাসের ডিমের দাম ১৫ টাকা। বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা বলবে এগুলো তো আজগুবি গল্প। তবে আমি যা

লিখছি বা লিখবো সত্যই লিখবো। 

আল্লাহ আমাদেরকে সত্য লিখে মৃত্যুবরণ করার সুযোগ দান করুন। আমিন

        আমার মা কোনো দিনই আমাকে লেখাপড়ার জন্য চাপ দিতেন না। আমি নিজ থেকেই লেখাপড়া করেছি। তবে আমাকে লেখাপড়ার জন্য বড় বোন আনোয়ারা বেগম (জামাই বড়শালঘর কেন্দ্রীয় জামে  মসজিদের মুয়াজ্জেম ক্বারী আমির হোসেন মোল্লা), চাচাতো/ জ্যাঠাতো ভাইবোনেরা বিশেষ করে আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন চাচাতো ভাই প্রফেসর ডক্টর মোঃ রফিকুল ইসলাম ( যিনি বর্তমানে ঢাকার শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত) বাড়িতে এলেই আমার লেখাপড়ার খবর নিতেন। ভাইয়া বাড়িতে আসলেই খবর পাওয়া মাত্র আমিও সাথে সাথে বই খাতা নিয়ে ভাইয়ার কাছে চলে যেতাম। ভাইয়া বলতেন, ‘সিরাজকোনো বিষয়ে সমস্যা আছে কিনা। আমি ইংরেজি Story লেখার সমস্যার কথা ভাইয়াকে জানালে সমাধান করে দিতেন। আজো এই ভাই সংসার পরিচালনার জন্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। 

আল্লাহ এই ভাইয়াসহ সকলকে দেশ, মাটি, জাতি মানবতার জন্য আরোও বেশি অবদান রাখার সুযোগ দান করুন। 

      মুহতারাম ফসিউদ্দিন চৌধুরী স্যারের স্বতঃস্ফূর্ত আন্তরিক চেষ্টায় আমি ১৯৮৬ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে Talentpool Scholarship পাই। 

       চেষ্টায় সবই হয়। যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে ভালো কাজে নেমে যায় তাকে বিজয়ী করার দায়িত্ব আল্লাহর হয়ে যায়। 

        পাকিস্তান আমলের শিক্ষামন্ত্রী কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ১নং বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের মহান ব্যক্তিত্ব আমাদেের সকলের অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন মরহুম মফিজ উদ্দিন আহমদ সাহেব এর প্রতিষ্ঠিত বড়শালঘর ইউ এম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৭৫৭ নম্বর পেয়ে আমি এস. এস. সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। দেবিদ্বারের আরেক নন্দিত ব্যক্তিত্ব ক্যাপ্টেন সুজাত আলী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দেবিদ্বার ক্যাপ্টেন সুজাত আলী সরকারি কলেজ থেকে এইচ. এস. সি (বিজ্ঞান), আরেক স্বনামধন্য মানবতাবাদি ব্যক্তি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম কলেজ, মুরাদনগর কুমিল্লা থেকে স্নাতক এবং সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগার পাশে অবস্থিত সিলেট সরকারি শিক্ষক মহাবিদ্যালয় থেকে বি.এড ডিগ্রি অর্জন করি

         আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে, মাতাপিতা, মহান শিক্ষকগণ এবং মুরব্বীদের দোয়ার বরকতে এবং আমার চেষ্টায় আমি এখন কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার  উপজেলার পাশেই ১০ নং দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়নের সুপ্রতিষ্ঠিত বিশাল ক্যাম্পাস সংবলিত মাশিকাড়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিতমাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়েসহকারি প্রধান শিক্ষক (ইংরেজি) হিসেবে কর্মরত আছি। 

         ইতিপূর্বে আমি ঢাকা উত্তর মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয় বিয়ানীবাজার সিলেট, ঝিঙ্গাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় (বর্তমান ঝিঙ্গাবাড়ী স্কুল এন্ড কলেজ) কানাইঘাট সিলেট, নবীয়াবাদ আবদুল ওয়াদুদ সরকার ফাযিল মাদরাসা মুরাদনগর কুমিল্লা, ফয়েজিয়া রাজ্জাকিয়া দাখিল মাদরাসা বি পাড়া কুমিল্লা ( মোস্তাক ফয়েজী পীর সাহেবের মাদরাসা) এবং দেবপুর বাজার কাচারিতলা দাখিল মাদরাসা বুড়িচং কুমিল্লাতে কর্মরত ছিলাম

        নতুন প্রজন্মের জন্য নিয়মিত লিখছিঃ

লেখা আমার পেশা বা নেশা নয়। নতুন প্রজন্মের চালচলন, রীতিনীতি, আচারআচরণ আমাকে তাড়িত করে।। অজানা গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে দেশ। দেশের এই পরিস্থিতিতে দেশ জাতি মাটি মানবতার জন্য লেখা সময়ের দাবি মনে করছি।   

যার যার অবস্থান থেকে সাধ্যানুযায়ী লেখা উচিত। ২০২১ সাল থেকে  নিয়মিত লিখছি। ইতোমধ্যে ঢাকার দ্বিমাসিক নব ভাবনা, বরিশালের মুক্তবুলি এবং স্থানীয় কয়েকটি দৈনিক পত্রিকাতে আমার রকমারি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। পর্যন্ত প্রায় ৬০টির মতো ছড়া / কবিতা লেখা হয়ে গেছে। কয়েকটি গল্প প্রবন্ধও প্রকাশিত হয়েছে। 

চট্টগ্রাম থেকে নিয়মিত প্রকাশিতকিশোর দ্বীন দুনিয়াপত্রিকাতে ইতোমধ্যে ধারাবাহিক ক্যারিয়ার গাইডবড় যদি হতে চাও১১ তম পর্ব প্রকাশ হয়েছে। 

       অচিরেই ১২তম পর্ব প্রকাশ হবে ইনশাআল্লাহ

এটা হবে পর্যন্ত প্রকাশিত পর্বের মধ্যে সেরা

পর্বে থাকবে দেশ সেরা একজন শিক্ষার্থীর

লেখাপড়া নিয়ে দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকার। যে সাক্ষাৎকার  দেশের পিছিয়ে পড়া পড়ুয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর একান্ত প্রয়োজনীয়। আল্লাহ আমাকে যত দিন জীবিত রাখবেন তত দিন এই লেখাটি চালু থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমার শখ হলো দেখা এবং লেখা

আমার লেখা একটি  কবিতার মাধ্যমে আজকের লেখাটা শেষ করছি

Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com