ঢাকাশনিবার , ২ এপ্রিল ২০২২
  1. অপরাধ,দূর্নীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ক্যাম্পাস
  4. খেলাধুলা
  5. গ্রামবাংলা
  6. জাতীয়
  7. ফিচার
  8. বিনোদন
  9. মুক্তমত
  10. রকমারি
  11. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হারাতে বসেছে  মানুষের সাথে নিবিড় সম্পর্কের বাঁধন

আতিফ রাসেল টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
এপ্রিল ২, ২০২২ ৩:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আমার পাড়া বা মহল্লার সংস্কৃতি বলতে বুঝি, সেখানকার প্রতিবেশির আচার-ব্যবহার, খাবার দাবার, পোশাক পরিচ্ছদ, খেলাধূলো, বিনোদনসহ আরো অনেক কিছু, যার মধ্যে দিয়ে নিজের গ্রামকে বা শহরকে গৌরবের সাথে এক সুন্দর পথ চেনাতে পারে মানুষ। আমাদের নিজের এক সংস্কৃতি আছে যাকে আমরা বলতে পারি এক কথায় বাঙালি সংস্কৃতি। কিন্তু আজ বিশ্বায়নের আধুনিকতার ছোঁয়ায় পাশ্চাত্য সংস্কৃতি অনুকরন করতে গিয়ে আমরা বাঙালিরাও হারাতে বসেছি আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিবোধ।

বাংলা সংস্কৃতির তথা বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। প্রতি বছর বাংলা পয়লা তারিখে আমাদের সাড়া বাংলা মেতে ওঠে এই উৎসবে। এই দিন গুরুজনদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা, বন্ধু বান্ধবদের ছড়া লেখা গ্রিটিংস কার্ড বিনিময় করার মধ্যে দিয়ে বন্ধুত্ব অটুট রাখার যে প্রবণতা তা আজ কালের গর্ভে বিলিন হতে বসেছে, বা হয়ে গিয়েছে। নববর্ষের ঠিক আগের দিন অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তিতে আগে বাঙালিদের বাড়িতে, পাড়া পড়শিতে কাচা আম দিয়ে অম্ল ডাল তৈরীর প্রথা ছিল, ছিল ছাতু খাবার রীতি সেসব আজ আর কোথায়? এই প্রজন্মতো নয়ই, এর পূর্ববর্তী প্রজন্মের মানুষরাও যেন আজ নিজের কাজ ছাড়া কিছুই বুঝতে চান না, কিছুই মানতে চান না।

আমার মনে আছে কোন এক সময় পৌষ সংক্রান্তিতে আমাদের মা কাকিমারা ডিস ভর্তি করে পিঠে পুলি, পায়েশ দিয়ে যেতেন, গ্রাম বাংলায় মা কাকিমার হাতের পিঠে পুলির স্বাদ গ্রহণ থেকে আজ আমরা বঞ্চিত। তাছাড়া আজকালকার জেনারেশনের লোক যারা তারা নিজের বাড়িতে পিঠে তৈরী করে খাবে কেন অত কষ্ট করে! তাদেরতো রয়েছে পিঠেপুলি উৎসব, পৌষমেলা ইত্যাদি, সেখানে গেলে টাকার বিনিময়েইতো খেতে পারবেন পিঠে পুলি। গ্রাম থেকে আজ হারিয়ে যাচ্ছে বন্ধুদের সাথে সুখ দুঃখের গল্প, তাদের ভাবের আদান প্রদান সব হচ্ছে এখন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া সটস্টস মাধ্যমে। আর হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার সেই হিড়িক। মা-কাকিমারা যেন আজ সন্ধেটা কাটাতে বেশি  ভালোবাসেন টিভি  সিরিয়ালের মতো কৃত্রিম বস্তুর আচ্ছাদনেই। আর ছেলে মেয়ে, দাদা দিদিরা ব্যস্ত অনলাইনে যেমন: ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ, ইউটিউব এসব নিয়েই।

২০০৮-২০১০ সালের আগেও দেখতে পেয়েছি প্রিয় মানুষের সাথে কথা হতো চিঠি আদান- প্রদান মাধ্যমে যার উত্তর আসতে সময় লাগতো প্রায় ৭দিন মতো তার উত্তর আশায় বসে তার প্রহর গুনতো। আর এখন মিনিটে মিনিটে চিঠি দেওয়া নেওয়া হচ্ছে অনলাইনে।

এই প্রযুক্তিগত ছোঁয়ায় মানুষের মধ্যে আজ হারাতে বসেছে  মানুষের সাথে নিবিড় সম্পর্কের বাঁধন। আজকের দিনে এসে আমাদের গ্রাম- মহল্লায় বিভিন্ন ডিজে,মডার্ন গান ও বিদেশী গান,এইসব গান ছাড়া অনুষ্ঠান বৃথা। আমাদের দেশিও  আজ সত্যিই হারাতে বসেছি। এখনকার  ছেলে-মেয়েরা  কানামাছি, গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্ধা, হা ডু ডু এসব খেলা সম্বন্ধে কিছু জানে কিনা তাতে সন্দেহ আছে। আসলে এসব খেলা আজ গ্রামে কিংবা শহরে বিলুপ্তের পথে। আসলে আমরা আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতিকে আজ আর তোয়াক্কা করে চলি না, কারন অনলাইনই এখন সব। আজ আমরা নিজের সংস্কৃতিকে দূরে ঠেলে দিয়ে পাশ্চাত্য সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টায় আছি।

“এখন পুজারি হলো নাকি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন আর পুজোর মূল মন্ত্র হলো ইন্টারনেট”

এই সাইটে প্রতিনিধির পাঠানো নিজস্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।