এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে ভোলার চরফ্যাসনে মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোলানী স্বপ্ন বোরো ধান। যতদূর চোখ যায় সেখানেই দেখা যায় এক মনোরম সোনালী দৃশ্য । ইতোমধ্যে কৃষক কৃষাণীরা ধানের ক্ষেত (জমি) থেকে ধান কেটে ঘরে তুলতে শুরু করেছেন চাহিদাসম্পন্ন লাভে বিক্রির আশায় ।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে , এ বছরে উপজেলার পৌরসভা সহ ২১টি ইউনিয়নে ৩০ হাজার ৬শ ৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ১৭ হাজার ৭শ ৫০ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল উফসী জাতের চাষাবাদ হয়েছে। ১২ হাজার ৮শ ৯০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান চাষাবাদ হয়েছে। ধানের জাতের মধ্যে উফসী জিংক সমৃদ্ধি ব্রি-৭৪, ব্রি-২৮ ও ব্রি-৬৭ ধানের চাষাবাদ করেছে কৃষকরা।
এছাড়া অন্যান্য জাতের স্থানীয় বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। ১লাখ ৯৯ হাজার ১৬০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে এ উপজেলাতে।
প্রতি মন ধানের মূল্য ১ হাজার টাকা নির্ধারন করেছেন কৃষি বিভাগ। এ হিসেবে উৎপাদিত ধানের মূল্য দাড়ায় ৪শ ৯৭ কোটি ৯ লাখ টাকা । প্রতি বছর একটি নিদিষ্ট সময়ে এ ধান করে থাকেন কৃষকরা। বোরো ধঅন রোপন শুরু হয় বাংলা কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাস থেকে। পুরো বৈশাখমাস জুড়ে চলে ধান ঘরে তোলা উৎসব। আমনের মৌসুম শেষ হলেই বোরোর মৌসুম শুরু হয়।কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, বছরের সঠিক সময়ের মধ্যে জমি চাষ দিয়ে ফসল উৎপাদনের উপযোগী করে বোরো ধানের চারা রোপন করা হয়। এতে তাদের প্রতি ৮ শতাংশ জমিতে কায়িক শ্রম সহ ৪ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে জানান। কৃষকেরা ভালো দামে ধান বিক্রির আশায় গত ১ সপ্তাহ ধরে কৃষকরা ভোর থেকে শুরু করে ঘরে তোলা পর্যন্ত দিনভর ব্যস্ত থাকছেন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ।
আব্দুল্লাহ পুর ইউনিয়নের কৃষক খালেক সিকদার জানান, এবছর তিনি ৪০ শতাংশ জমিতে উফসী ব্রি-৭৪ ধান চাষ করেছেন। এছাড়া ও বারসো-৫ এবং হিরা-২ চাষ করার ইচ্ছা থাকলেও বীজ না থাকায় চাষ করতে পারেননি। তবে তার সকল ফসলের ভালো ফলন হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা জানান, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। ন্যায্য মূল্য পেলে কৃষকরা লাভবান হবেন।
আপনার মতামত লিখুন :