
মোঃ সাহেব আলী, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ):
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তিনটি দুর্নীতি মামলার আসামি হয়েও বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আবুল কালাম আজাদ। এমন ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এই কর্মকর্তার 'অজানা শক্তি' কোথায়?
দুদকের পাবনা কার্যালয়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদ, তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ও ছেলে ফজলে রাব্বীর নামে প্রায় ৪ কোটি ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। অথচ এসব সম্পদের কোনো বৈধ উৎস নেই।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে শাহজাদপুরে যোগদানের পর থেকেই তৎকালীন সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ শুরু করেন কালাম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কার্যালয় রূপ নেয় 'দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দু' হিসেবে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন, বিল ভাউচার ও বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের 'কমিশন বাণিজ্য' চালাতেন তিনি।
দুদকের নথি অনুযায়ী, ২০২১ ও ২০২২ সালে বদলির আদেশ হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শাহজাদপুরেই থেকে যান তিনি। এমনকি ২০২৪ সালে আবারও একই উপজেলায় ফিরে আসেন।
আরও আলোচনায় এসেছে তাঁর ব্যবহৃত বিলাসবহুল টয়োটা প্রিমিও গাড়ি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। অথচ একজন পিআইও’র সরকারি বেতনের সঙ্গে এই লাইফস্টাইলের মিল পাওয়া যায় না।
দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর গত ১১ মার্চ তিনটি মামলা দায়ের করেন আবুল কালাম আজাদ, তার স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন,
“পিআইও আবুল কালামের কারণে আমি নিজেও বিব্রত। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আশা করি দ্রুত এ অবস্থার অবসান হবে।”
এ বিষয়ে পিআইও কালামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাঁর অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
জনমনে প্রশ্ন—“আইন কি কেবল সাধারণ মানুষের জন্য? মামলার পরও এই কর্মকর্তার বহাল থাকা কি বিচারহীনতার ইঙ্গিত নয়?”