দুদকের নজরদারিতে বরিশাল সিটির ১২ কর্মকর্তা


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৫-০৭-০৫, ৩:৪৮ PM / ৭১
দুদকের নজরদারিতে বরিশাল সিটির ১২ কর্মকর্তা

মেহেরুননেছা মেহের (বরিশাল প্রতিনিধি)::
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে নড়েচড়ে বসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি ইতিমধ্যে পাঁচটি দপ্তরে সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে। দপ্তরগুলো হলো—প্রকৌশল শাখা, সার্ভে শাখা, প্ল্যান শাখা, ট্রেড লাইসেন্স শাখা ও বাজার শাখা।

এসব দপ্তরের ১৮ কর্মকর্তার নানা তথ্য-উপাত্ত চেয়ে তলব করেছে দুদক। এর মধ্যে অন্তত ১২ জনকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করছেন দুদকের বরিশাল সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবুল কাইউম হাওলাদার।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়নকাজের দরপত্র, সম্পত্তি ও অর্থ বরাদ্দ, ল্যাপটপ-ড্রোন-ফার্নিচার ক্রয়, মেয়রের ঈদ শুভেচ্ছা ফেস্টুন স্থাপনের খরচসহ নানা ব্যয়ের হিসাব তলব করা হয়েছে। সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ ও আবুল খায়েরের মেয়াদকালে নিয়োগ-ছাঁটাই সম্পর্কিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

দুদকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সবচেয়ে বড় বাজেট প্রকৌশল শাখায় হওয়ায় সেখানে লুটপাট বেশি হয়। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হুমায়ুন কবিরকে মূল হোতা হিসেবে অভিযোগ করা হচ্ছে। তিনি বিভিন্ন উন্নয়নকাজে ঠিকাদারদের কাছ থেকে পার্সেন্টেজ নেন বলে দাবি। অডিটরিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের অনিয়মের তদন্তেও তার নাম এসেছে। বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের সাবেক সহসভাপতি হুমায়ুন কবির সাবেক মেয়র সাদিক ও খোকন সেরনিয়াবাতের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বর্তমান প্রশাসক রায়হান কাওছারেরও আস্থাভাজন তিনি।

বিষয়টি জানতে হুমায়ুন কবিরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে, হাট-বাজার শাখার তত্ত্বাবধায়ক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও দোকান দখল ও ভাড়াটিয়াদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সিটি মার্কেটের ভাড়াটিয়া ফয়সাল কবির সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দুদকে। নুরুল ইসলাম বলেন, “আমি ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় চাকরি করতে পারিনি। এখন কাজ করছি, তাই ষড়যন্ত্র চলছে। নোটিশের জবাব আমি দেব।”

সার্ভে ও প্ল্যান শাখার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ঘুষ ও উৎকোচের অভিযোগ আছে। জানা গেছে, সার্ভেয়াররা প্ল্যান দেওয়ার আগে ভূমি ছাড়পত্রের নামে এবং প্রতিবেদন দাখিলে উৎকোচ নেন। এই ভাগ প্ল্যান শাখার কয়েকজন সহকারীর কাছেও যায়। করপোরেশনের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার কথাও জানা গেছে।

দুদকের নোটিশ পাওয়া প্ল্যান সহকারী কাল্টু জানিয়েছেন, তিনি ১০ জুলাইয়ের মধ্যে জবাব দেবেন। তবে নোটিশের বিষয়বস্তু গোপন রেখেছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সনাক) বরিশালের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, “অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে দিকেও দুদককে সতর্ক থাকতে হবে।”

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “দুদকের চিঠি একের পর এক আসছে, এটা নিয়মিত ঘটনা। নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তারা জবাব দেবেন।”

তদন্ত বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কাইউম হাওলাদার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।