

এম ৱেজা টুনু | সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে প্রায় আড়াই কোটি টাকার সরকারি ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হয়েছে। গত দুই দিন ধরে এ নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হলে বুধবার বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সরকারি ওষুধ রোগীদের বিনামূল্যে দেওয়ার পরিবর্তে বাইরে পাচারের অভিযোগে দুদক সম্প্রতি অনুসন্ধান চালায়। রোগীরা অভিযোগ করেছেন, যথাসময়ে ওষুধ বিতরণ না করায় এ বিপুল পরিমাণ ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ে আছে। এতে সরকারি অর্থের ব্যাপক অপচয় হয়েছে।
এছাড়াও জানা গেছে, স্টোর কিপারের দায়িত্বে একজন থাকার কথা থাকলেও কাজ করছেন মেডিকেল টেকনেশিয়ান ও সিনিয়র স্টাফ নার্সরা। অথচ প্রতিদিন হাসপাতালে তিন শতাধিক ভর্তি রোগী ও হাজারো বহির্বিভাগের রোগী ওষুধের অভাবে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
বুধবার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান হয়েছেন সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আশুতোষ সিংহ। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের কাজে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে হাসপাতালের দায়িত্বশীলরা নানা অজুহাত দেখিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. বিষ্ণু প্রসাদ চন্দ অবশেষে স্টোর রুম খোলার নির্দেশ দেন। সেখানে কার্টনভর্তি বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়—কোনোটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ৬ মাস আগে, আবার কোনোটির ২০২৩ সালের আগস্টে। হাসপাতালের পুরনো ভবনেও আরও বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুত রয়েছে বলে দেখা যায়।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. সুমন বণিক ঢাকায় থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম স্বীকার করেছেন, স্টোর রুমে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আছে।
আপনার মতামত লিখুন :