প্রেমের ফাঁদে কিশোরীরা, ডেটিং অ্যাপে যৌন শোষণ


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৫-১১-০৬, ৯:৪৩ PM / ৫৮
প্রেমের ফাঁদে কিশোরীরা, ডেটিং অ্যাপে যৌন শোষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রেমের নামে চলছে যৌন শোষণের এক ভয়াবহ কারবার! জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপ যেমন Tinder, Bumble এবং Badoo এখন বাংলাদেশে পরিণত হচ্ছে যৌন ট্রাফিকিংয়ের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। ফেক প্রোফাইলের মাধ্যমে সংগঠিত চক্র কিশোরীদের গিফট ও টাকার লোভ দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে যৌন ব্যবসায় নামিয়ে দিচ্ছে।

Statista ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত দুই বছরে ডেটিং অ্যাপ-সংশ্লিষ্ট যৌন শোষণের ঘটনা ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট জানিয়েছে, ২০২৪ সালে এ সংক্রান্ত অভিযোগ এসেছে ২৫০টিরও বেশি; ভুক্তভোগীদের ৪০ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দারিদ্র্য, পারিবারিক অজ্ঞতা, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব এবং “সুগার ড্যাডি” কালচারের ফলে অনেক কিশোরী অনলাইনে বিপদে জড়িয়ে পড়ছে। BRAC বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা যায়, ৩৫% কিশোরী বন্ধুত্বের উদ্দেশ্যে অ্যাপ ব্যবহার শুরু করে, আর ২০% আর্থিক প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়। Ain o Salish Kendra (ASK) জানিয়েছে, অনেক ভুক্তভোগীকে অ্যাপের মাধ্যমে ট্রাফিকাররা হোটেল ও বর্ডেলে পাঠিয়েছে।

এক ১৬ বছরের স্কুলছাত্রী Bumble-এ এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়ের পর ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছে। আবার এক কিশোরী Tinder-এর মাধ্যমে মানবপাচার চক্রের হাতে পড়ে চট্টগ্রামের এক বর্ডেলে বিক্রি হয়, পরে পুলিশ উদ্ধার করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ড. রিমা চৌধুরীর মতে, “এই অ্যাপগুলোর অ্যালগরিদম কিশোরীদের মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়, যা শোষণকে সহজ করে।” সাইবার বিশেষজ্ঞ ফারহানা আহমেদ বলেন, “কোম্পানিগুলোর মডারেশন দুর্বল এবং দেশে কঠোর ডিজিটাল রেগুলেশন না থাকায় সমস্যা বাড়ছে।”

যদিও Tinder ও Bumble নতুন ভেরিফিকেশন ফিচার এনেছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন তা যথেষ্ট নয়। পুলিশের পরামর্শ—১৮ বছরের নিচে এসব অ্যাপে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা, স্কুলে সচেতনতা কার্যক্রম চালু করা এবং অভিভাবকদের নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা।

ডিজিটাল নিরাপত্তা রক্ষায় এখনই সকলে সচেতন হতে হবে। যেকোনো সন্দেহজনক ঘটনার অভিযোগ করা যাবে ৯৯৯ বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে।