
অনলাইন ডেস্ক:- বর্তমান সমাজে পরকীয়ার প্রবণতা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতা, অনলাইন যোগাযোগ ও গোপন সম্পর্কের সুযোগ বৃদ্ধির কারণে দাম্পত্য জীবনে অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাস বাড়ছে দিন দিন। একসময় সংসার টিকিয়ে রাখতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে চেষ্টা করলেও এখন সামান্য সন্দেহ কিংবা মান-অভিমানই বিচ্ছেদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে সম্পর্ককে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, পরকীয়ায় আসক্তির পেছনে মানসিক শূন্যতা, সম্পর্কের অভাব, সামাজিক অবক্ষয় ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপ্রতুল নিয়ন্ত্রণ বড় ভূমিকা রাখছে। একে অপরের প্রতি সময় না দেওয়া, পারস্পরিক যোগাযোগের ঘাটতি ও মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহারও এ সমস্যাকে ত্বরান্বিত করছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) “ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস রিপোর্ট–২০২৩” অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে বিবাহবিচ্ছেদের হার প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ শহরাঞ্চলে এ হার আরও বেশি। বিবিএস সূত্র মতে, এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে পরকীয়া ও পারিবারিক অবিশ্বাসকেই দায়ী করা হয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে— পরকীয়ার প্রবণতা শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বহু দেশেও দ্রুত বাড়ছে। সময় নিউজের আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে (২৬ ডিসেম্বর ২০২১, Somoy News) উল্লেখ করা হয়, আয়ারল্যান্ডে প্রতি পাঁচজনের একজন পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িত। সেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে জার্মানি ও তৃতীয় স্থানে কলোম্বিয়া। এই সমীক্ষা অনুযায়ী, আয়ারল্যান্ডে বিবাহে প্রতারণার হার প্রায় ২০ শতাংশ এবং জার্মানিতে প্রায় ১৩ শতাংশ নাগরিক কখনো না কখনো পরকীয়ায় জড়িয়েছেন।
শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্রই এই প্রবণতা সমাজের স্থিতি নষ্ট করছে এবং বিশেষ করে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পরিস্থিতি রোধে পারিবারিক বন্ধন, পারস্পরিক আস্থা এবং অনলাইন আচরণে নৈতিক শিক্ষা জোরদার করাই এখন সময়ের দাবি।