

সিলেট প্রতিনিধি | সিলেট
সিলেট রেলওয়ে স্টেশন এলাকা ও দক্ষিণ সুরমা জুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর কিছুদিন অপরাধ কমলেও বর্তমানে মাদকসেবী ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অপরাধচক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলিম রানা ও মলম–মার্টির সর্দার কামরুল হাসান জুলহাস।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রেলস্টেশনের কুল–ঘেঁষা বাইপাস সড়কের মুখে পাঁচ ছিনতাইকারী অস্ত্রের মুখে এক যুবকের সাত হাজার টাকা ছিনতাই করে। ভুক্তভোগী আব্দুল আলীম মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার দীঘলবাক গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, ভোলাগঞ্জ থেকে সিলেট এসে ট্রেনে জুড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে ছিনতাইকারী চক্র তাকে জিম্মি করে টাকা লুটে নেয়।
এদিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশ এলাকায় অবস্থিত আবাসিক–অনাবাসিক অনেক হোটেল স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ছত্রচ্ছায়ায় অনৈতিক কার্যকলাপের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। সচেতন মহলের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে পুলিশ ‘লোক দেখানো’ অভিযান চালালেও অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে।
হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে পারাইরচক–লালমাটি ও ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের টার্গেট করছে ছিনতাইকারী চক্র। একইভাবে সিলেট–জকিগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা–উত্তর সুরমা সড়কে যাতায়াত করা সিএনজিতে অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির দৌরাত্ম্য বেড়েছে।
রাতে দক্ষিণ সুরমায় কিশোর গ্যাংয়ের গতিবিধি লক্ষ করা যায়। আবাসিক এলাকায় গভীর রাতে হাইড্রোলিক হর্ন বাজিয়ে বেপরোয়া আচরণে বিরক্ত স্থানীয়রা। কদমতলীসহ কয়েকটি এলাকায় বাউল আসরের নামে গভীর রাত পর্যন্ত অশালীনতা ও উচ্চস্বরে গানবাজনা চললেও প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
উত্তর সুরমায় হকার উচ্ছেদের পর বেশিরভাগ হকার এখন দক্ষিণ সুরমায় জমায়েত হচ্ছেন। বাস টার্মিনাল, ক্বীনব্রিজ, বাবনা, হুমায়ুন রশীদ চত্বর ও কদমতলীতে ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠছে ভাসমান দোকান। সড়ক দখল করে এসব দোকান চালাতে সহায়তা দিচ্ছেন স্থানীয় কিছু বখাটে।
সচেতন মহল মনে করে—জেলা প্রশাসনের দ্রুত নজরদারি ও কঠোর আইন–শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ছাড়া দক্ষিণ সুরমার পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :