ভোলার চরফ্যাসনে জনপ্রিয় হচ্ছে স্বর্জন পদ্ধতিতে শিম চাষ


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৫-১২-০৮, ৩:২৩ PM / ১১
ভোলার চরফ্যাসনে জনপ্রিয় হচ্ছে স্বর্জন পদ্ধতিতে শিম চাষ

এম ফাহিম, চরফ্যাসন (ভোলা)

ভোলার চরফ্যাসন উপজেলায় ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে স্বর্জন পদ্ধতিতে আগাম জাতের শিম চাষ। চারদিকে নদীবেষ্টিত হওয়ার কারণে বর্ষা ও জলোচ্ছ্বাসে জমিতে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকা এ অঞ্চলের মৌসুমি চাষে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে গত কয়েক বছরে স্বর্জন অর্থাৎ উঁচু বেড বা উঁচু কূপ তৈরি করে সবজি উৎপাদন পদ্ধতি কৃষকদের কাছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে আগাম শিম চাষে এ পদ্ধতি এখন লাভজনক চাষাবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।
কৃষকদের মতে, স্বর্জন পদ্ধতিতে পানি নিষ্কাশন সহজ, মাটির উর্বরতা বজায় থাকে এবং গাছের শিকড় স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠায় দ্রুত ফলন পাওয়া যায়। আগাম শিমের বাজারদর বেশি হওয়ায় এ পদ্ধতিতে লাভও তুলনামূলক ভালো হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার আসলামপুর, ওমরপুর, চর মাদ্রাজ, আমিনাবাদ, এওয়াজপুর, জিন্নাগড় ও হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে রুপবান জাতের আগাম শিম চাষ হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০৫ হেক্টর জমি, কিন্তু কৃষকরা তা ছাড়িয়ে ৪২৫ হেক্টর জমিতে শিম চাষ করেছেন। এ বছর ৮০০ কৃষক আগাম শিম উৎপাদনে যুক্ত রয়েছেন। কৃষকদের দাবি—আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বড় ধরনের লাভ হবে। মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি শিম ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৭০–৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষক আবু তাহের জানান, “আগে প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষ করে কখনো লাভ, কখনো লোকসান হয়েছে। বর্তমানে পুরো বছরই স্বর্জন পদ্ধতিতে চাষ করি। এবার ২৪০ শতাংশ জমিতে রুপবান জাতের আগাম শিম চাষ করছি। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভালো হলে প্রায় ১০ লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারব।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, “চরফ্যাসন উপজেলা সবজি চাষের জন্য সমৃদ্ধ। স্বর্জন পদ্ধতিতে বছরে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়। রুপবান জাতের আগাম শিম চাষে কৃষকরা উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হচ্ছেন। আমরা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।”