

ফাহিম হোসেন রিজু, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নং সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি একসময় মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার নির্ভরযোগ্য স্থান ছিল। তবে বর্তমানে বরাদ্দ সংকট, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় কেন্দ্রটি ভেঙে-চুরে সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়—ভবনের দরজা-জানালা নেই, ভাঙা দেয়ালে ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। ভেতরে আগাছা, ময়লা-আবর্জনা, পশুর বিষ্ঠা ও ভাঙা কাঁচে ভরপুর। টয়লেট অকার্যকর, পানির লাইন নষ্ট এবং কোনো প্রকার চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই। রাতে ভবনটি মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়ে এলাকাবাসীর উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
স্থানীয় নারী রাবেয়া খাতুন বলেন, “কেন্দ্রটি চালু থাকলে গর্ভবতী মা ও শিশুদের চিকিৎসা কাছে পাওয়া যেত। এখন উপজেলা হাসপাতালে যেতে কষ্ট হয়।”
রানীগঞ্জ সরকারি স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মনোরঞ্জন মোহন্ত ভুট্টু বলেন, “এটি শুধু একটি পরিত্যক্ত ভবন নয়—এটি গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার ধ্বংসপ্রাপ্ত বাস্তবতা।”
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন জানান, একাধিকবার সংস্কারের আবেদন করা হলেও বরাদ্দ সংকটের কারণে কাজ হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট (এইচইডি) অবগত আছে, তবে বরাদ্দ ও জনবল অনুমোদন সময়সাপেক্ষ।
স্থানীয়দের দাবি—অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে ভবন সংস্কার করে স্বাস্থ্যসেবা পুনরায় চালু করা হোক। নইলে যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :