তিস্তার তীরে বদলাচ্ছে জীবনের গল্প


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০১-০২, ৭:৪৫ PM / ১৬
তিস্তার তীরে বদলাচ্ছে জীবনের গল্প

মাজারুল ইসলাম, লালমনিরহাট প্রতিনিধি

উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা লালমনিরহাট। নদীভাঙন, বন্যা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই চলে এ জনপদের মানুষের জীবন। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ নিত্যদিনের। তবে সেই দুঃখ লাঘবে আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র

যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক উপায়ে নদীতীর রক্ষায় সংস্থাটি নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর সুফল পেতে শুরু করেছে হাজারো মানুষ।

জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে নির্মিত প্রায় ১২০০ ফুট কাঁচা রাস্তা কয়েকটি গ্রামকে মূল লোকালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এতে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।

চরাঞ্চলের প্রখর রোদে পথচারী ও কৃষকদের বিশ্রামের জন্য রাস্তার পাশে নির্মাণ করা হয়েছে ‘শীতল ছায়া’ নামের গোলঘর। এতে পথচারীদের পাশাপাশি মাঠে কাজ করা কৃষকরাও উপকৃত হচ্ছেন।

একই উপজেলার সিন্দুর্ণা এলাকায় নদীতীরে বাঁশের বান্ডাল পদ্ধতি ব্যবহার করে নদীভাঙন রোধের কাজ করা হয়েছে। এতে একদিকে ভাঙন কমছে, অন্যদিকে পলি জমে নদীতীর পুনর্গঠনে সহায়তা করছে। ফলে তীরবর্তী মানুষের ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা কিছুটা হলেও হ্রাস পেয়েছে।

সানিয়াজান ইউনিয়নের শিক্ষার্থী মিম জানায়, আগে রাস্তা না থাকায় নিয়মিত স্কুলে যেতে পারত না। বন্যার সময় যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেত। এখন রাস্তা হওয়ায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ হয়েছে।

একই এলাকার কৃষক আব্দুল বারেক বলেন, ফসল উৎপাদন করেও আগে ন্যায্য দাম পাওয়া যেত না। বর্তমানে যানবাহন সরাসরি চরে আসতে পারায় ফসল বিক্রি সহজ হয়েছে এবং লাভ বাড়ছে।

সিন্দুর্ণা ইউনিয়নের বাসিন্দা হযরত আলী জানান, বাঁশের বান্ডালের কারণে নদীতীরে বালু জমতে শুরু করেছে। এতে ভবিষ্যতে নদীভাঙন কমবে এবং বন্যায় ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে।

গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তা রবিউল হাসান বলেন, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সহযোগিতায় এবং জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে নদীতীর সুরক্ষার কাজ করা হয়েছে। পাশাপাশি সানিয়াজান ইউনিয়নে রাস্তা নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ ও শীতল ছায়া গোলঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের স্বস্তির মাঝেও একটি অপূর্ণতা রয়ে গেছে। নবনির্মিত রাস্তাটিতে দুটি ব্রিজ বা কালভার্ট জরুরি হয়ে পড়েছে। দ্রুত এসব অবকাঠামো নির্মাণে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।