সাফি, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট)
লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে দিন দিন বাড়ছে ওভারলোডিং ও তথাকথিত ‘কমলা সিন্ডিকেটের’ দৌরাত্ম্য। এসব সিন্ডিকেটের বেআইনি প্রভাব ও অতিরিক্ত খরচের চাপে জিম্মি হয়ে পড়ছেন ফল আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বন্দর এলাকায় পণ্য পরিবহনের প্রতিটি ধাপে সিন্ডিকেটের লোকজনের চাপে বাড়তি টোল দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত ওজনের বেশি পণ্য বহনে বাধ্য করায় ঝুঁকিতে পড়ছে পরিবহন ব্যবস্থা ও ব্যবসা কার্যক্রম। এতে স্বাভাবিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কমছে বন্দরের সম্ভাব্য রাজস্ব আয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুটান থেকে কমলালেবু আমদানিকারক ও ঢাকার এক ফল ব্যবসায়ী জানান, সরকারিভাবে ফল আমদানিতে ট্যাক্স ফ্রি ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে প্রতিটি ট্রাকে বিভিন্ন খাতে অর্থ দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে কাস্টমসে ৪ হাজার ৫০০ টাকা, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শুল্ক গোয়েন্দাকে ২০০ টাকা, ব্রাঞ্চ BE বাবদ ২২০ টাকা, পোকামাকড় পরীক্ষার নামে ১ হাজার ৩৫০ টাকা, সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনকে ৫০০ টাকা ও কোর্ট ফি ৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতিটি ট্রাক থেকে আদায় হচ্ছে ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা।
গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভুটান থেকে প্রায় ৭৫০টি কমলালেবুর ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি ট্রাক থেকে সাড়ে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, এসব বিষয়ে মুখ খুললেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর আউটপাস আটকে দেওয়া ও নানাভাবে হয়রানি করা হয়। ফলে বাধ্য হয়েই ‘স্পিড মানি’ দিতে হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত সিন্ডিকেটবিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারির দাবি জানান। তারা বলেন, এ অবস্থার অবসান না হলে বুড়িমারী স্থলবন্দরের সম্ভাবনাময় বাণিজ্য ভবিষ্যতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।