

চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধি
বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ভয়াবহতা মোকাবিলায় ভোলায় শুরু হয় একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রযুক্তিগত উদ্যোগ। ভোলার মনপুরা উপজেলার তরুণ উদ্ভাবক মো. তাহাসিন দীর্ঘ গবেষণা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে উদ্ভাবন করেন বিশেষ একটি ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’, যা পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলা পৌরসভার একটি পুকুরে ডিভাইসটির পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত সবার সামনে ডিভাইসটির কার্যকারিতা তুলে ধরা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৪ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। বরিশাল বিভাগে এ হার দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে ভোলা ও পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
এই নির্মম বাস্তবতা মো. তাহাসিনের ব্যক্তিগত জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলে। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি তার আপন খালাতো বোন পানিতে ডুবে মারা যায়। এর আগেও একই পরিবারের আরেকটি শিশু একইভাবে প্রাণ হারায়। এসব ঘটনা তাকে সমস্যাটির কার্যকর সমাধান খুঁজতে উদ্বুদ্ধ করে।
মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের সোনারচর গ্রামের বাসিন্দা মো. তাহাসিন শিক্ষক কারী আবদুল হালিমের তৃতীয় সন্তান। তিনি ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির মেকানিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থী। ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর তার এলাকায় এক শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে প্রায় আট থেকে নয় মাস গবেষণা ও প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি ডিভাইসটি তৈরি করেন।
উদ্ভাবিত ডিভাইসটির ওজন মাত্র দুই গ্রাম। এটি লকেটের মতো করে শিশুর গলায় পরানো যাবে। কোনো কারণে শিশু পানিতে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে স্থাপন করা রিসিভার ডিভাইসে উচ্চ শব্দে সাইরেন বাজে এবং অভিভাবকের মোবাইল ফোনে তাৎক্ষণিক কল যায়। একই সঙ্গে জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে শিশুটি কোন স্থানে পড়েছে, সেটিও শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
আপনার মতামত লিখুন :