দিনমজুর থেকে আলিশান বাড়ি, রাণীশংকৈলে তোলপাড়


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০২-০৪, ৬:৩৫ PM /
দিনমজুর থেকে আলিশান বাড়ি, রাণীশংকৈলে তোলপাড়

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিসের এক দিনমজুর হুসেইন আলীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকার সুযোগে তিনি অস্বাভাবিকভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হুসেইন আলী ২০১৯ সালের দিকে এলাকায় দৈনিক প্রায় ৩০০ টাকা মজুরিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে উপজেলা পিআইও অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. শাহনেওয়াজ আলী তাকে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দেখভালের দায়িত্ব দেন। ২০২০ সালে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে উপজেলা আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হলে হুসেইন আলীর দায়িত্ব আরও বিস্তৃত হয়।

অভিযোগ রয়েছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, স্কুল-কলেজ ভবন সংস্কার, সড়ক মেরামত ও সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হয়নি। কাগজে-কলমে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বাস্তবে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ কাজ দেখিয়ে পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এসব অনিয়মে পিআইও অফিসের একটি অংশ, ঠিকাদার ও প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশ থাকার অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাত্র দুই থেকে তিন বছরের ব্যবধানে হুসেইন আলীর জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে তিনি প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি আলিশান বাড়ি, জমিজমা ও অন্যান্য সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর। তারা বলছেন, একজন দিনমজুরের পক্ষে এত অল্প সময়ে এমন সম্পদ গড়া স্বাভাবিক নয়।

এ বিষয়ে হুসেইন আলী মুঠোফোনে দাবি করেন, তিনি পিআইও অফিসের কোনো স্থায়ী কর্মচারী নন এবং কেবল দিনমজুর হিসেবেই কাজ করেছেন। বাড়ি, জমি ও অঢেল সম্পদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পিআইও অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. শাহনেওয়াজ আলী বলেন, হুসেইন আলী পিআইও অফিসের কর্মকর্তা নন, তাকে শুধু সাইট দেখভালের জন্য দিনমজুর হিসেবে রাখা হয়েছিল। সম্পদের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নূরনবী সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে। তারা উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।