

আবুল কাশেম রুমন, সিলেট —
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের পুরকায়স্থ পাড়ায় খড়ের ফেইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে সংঘটিত এই অগ্নিকাণ্ডে এলাকার বিশিষ্ট গরু ব্যবসায়ী তাজ উদ্দিনের খড়ের ফেইন সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, অল্পের জন্য তাজ উদ্দিনসহ তার আরও তিন ভাইয়ের বসতঘর আগুনের হাত থেকে রক্ষা পায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে হঠাৎ করেই তাজ উদ্দিনের বাড়ির পাশে রাখা খড়ের ফেইন থেকে আগুনের লেলিহান শিখা উঠতে দেখে এলাকাবাসী। মুহূর্তের মধ্যেই শুকনো খড়ের স্তুপে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং চারদিকে ধোঁয়া ও আগুনে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাতাসের কারণে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথমে স্থানীয় লোকজন বালতি ও পানির পাইপ ব্যবহার করে নিজেদের উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে দ্রুত গোলাপগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই গবাদি পশুর খাদ্যের জন্য মজুত করে রাখা বিপুল পরিমাণ খড় পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে গরু ব্যবসায়ী তাজ উদ্দিনের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এই খড়গুলো নষ্ট হওয়ায় তার গবাদি পশু লালন-পালন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।
ভুক্তভোগী তাজ উদ্দিন বলেন, “অনেক কষ্ট করে গরুর খাবারের জন্য খড়গুলো সংগ্রহ করে রেখেছিলাম। চোখের সামনে সব পুড়ে শেষ হয়ে গেল। এখন কীভাবে গবাদি পশু সামলাবো বুঝতে পারছি না।” তিনি আরও জানান, আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তরা ইচ্ছাকৃতভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটাতে পারে।
ঘটনার পর এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিয়ে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :