
মোঃ সুলতান মারজান,মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি:-
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নে গ্রাম্য সালিশকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নুরুজ্জামান (২৫) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে প্রতিপক্ষের কিল-ঘুষি ও লাথির আঘাতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি কাফ্রিখাল ইউনিয়নের ইকবালপুর গ্রামে নুরুজ্জামানের মা লিলি বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী মোছন আলীর স্ত্রী রাহিমা বেগমের কথা-কাটাকাটি হয়। ওই ঘটনার জের ধরে পরদিন ৬ ফেব্রুয়ারি দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
বিষয়টি মীমাংসার নামে ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে প্রতিবেশী মহুবারের উঠানে একটি গ্রাম্য সালিশ ডাকা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ইকবালপুর গ্রামের ফাকরুল, রবিউল ও সাইদুল সালিশ পরিচালনা করেন এবং লিলি বেগমকে সেখানে উপস্থিত হতে চাপ প্রয়োগ করেন। সালিশে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় লিলি বেগমকে শাসানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
একপর্যায়ে লিলি বেগম সালিশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে পথিমধ্যে রাহিমা বেগম, তার মেয়ে জামাই জাহাঙ্গীর আলম এবং তার দুই বোন আরজিনা ও রনজি বেগম তার ওপর হামলা চালান। এ সময় মাকে রক্ষা করতে ছেলে নুরুজ্জামান এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও মারধর করে।
পরে নুরুজ্জামানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে ভ্যানযোগে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী ছালমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথিত সালিশদার ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
কাফ্রিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, এ ধরনের কোনো সালিশের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদকে জানানো হয়নি। কিছু টাউট প্রকৃতির লোক নিজেদের স্বার্থে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নুরুজ্জামান জানান, নিহতের মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।