সালথায় কাফনের কাপড়ে জোটের প্রতিবাদ


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০২-০৯, ১:১৬ PM /
সালথায় কাফনের কাপড়ে জোটের প্রতিবাদ

আরিফুল ইসলাম

ফরিদপুর-২ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের এমপি প্রার্থী শাহ মো: আকরাম আলী (ধলা হুজুর) এর গাড়ি বহরে হামলার প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে ফরিদপুরের সালথায় সংবাদ সম্মেলন করেছে ১১ দলীয় জোট। সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজন নেতাকর্মী কাফনের কাপড় পরে প্রতিবাদ জানান, যা এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সালথা উপজেলার বাহিরদিয়া মাদ্রাসায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রার্থী শাহ মো: আকরাম আলী। তিনি অভিযোগ করেন, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) গট্টি ইউনিয়নের জয়ঝাপ গ্রামে প্রচারণা শেষে বুড়িদিয়া বাজারে পৌঁছালে বিএনপি সমর্থিত একদল লোক ধানের শীষের মিছিল নিয়ে অশালীন স্লোগান দিতে থাকে। এরপর তার নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয় এবং গাড়ি আটকে কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।

আকরাম আলী বলেন, পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হন। তিনি প্রশাসনের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় তারা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তার কর্মী, সমর্থক ও এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে রিটার্নিং অফিসারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দাবি করেন, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং কারও প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন না। তবে নেতাকর্মীদের ধৈর্যকে দুর্বলতা মনে করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের আহবায়ক মওলানা নেছারদ্দিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফরিদপুর জেলা সভাপতি মওলানা আমজাদ হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমীর প্রফেসর আবুল ফজল মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি মুস্তাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মোল্যা দাবি করেন, গাড়িবহরে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি, কেবল উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

সালথা থানার ওসি মো. বাবুলুর রহমান খান বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিবেশ শান্ত করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, গাড়িবহরে হামলার কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।