
মো. ফাহিম, চরফ্যাসন (ভোলা)-
আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের মতো ভোলার চরফ্যাসন উপজেলাতেও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরফ্যাসনে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোলা-৪ আসনের চরফ্যাসনের ১৩০টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে এসব সামগ্রী এক কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয় এবং সন্ধ্যার মধ্যেই সব কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনী উপকরণ যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।
এ আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কামাল উদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা কামাল, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিজানুর রহমান, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আবুল কালাম, জনতার দলের জালাল উদ্দীন রুমি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
চরফ্যাসন আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ৫২৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩০৮ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৫ জন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠে রয়েছে পুলিশ, র্যাব, নৌবাহিনী, বিজিবি, আনসার ব্যাটালিয়ন এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। প্রায় ৫ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন বলে জানা গেছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লোকমান হোসেন জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটাররা যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।