ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রাত পোহালেই ত্রয়োদশ নির্বাচন - দৈনিক মুক্তি

রাত পোহালেই ত্রয়োদশ নির্বাচন

Exif_JPEG_420

মোঃ মাহাবুব আলম, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)

দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ভোটাধিকার নিয়ে বিতর্কের পর অবশেষে ভোট উৎসবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে দেশ। রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে ইতোমধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাজ করছে উত্তেজনা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে নানা আলোচনা।

ঠাকুরগাঁও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের অপেক্ষা। এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন—এমন প্রত্যাশা প্রশাসনের।

রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে কিনা। বিএনপি নাকি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করবে—এ বিষয়টি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ঠাকুরগাঁওসহ সারাদেশেই তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও জেলার ৩টি আসনে মোট ৪১৭টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্র তিনদিন ধরে সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মাঠে থাকবে ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ২২ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনীর ১১ প্লাটুন, বিজিবির ৩২ প্লাটুন, র‍্যাবের ৩ প্লাটুন, পুলিশের ১ হাজার ২৫০ জন সদস্য এবং ৬ হাজারেরও বেশি আনসার সদস্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই বিশাল উপস্থিতি ভোটের পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা বলেন, জেলার ২০১টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এবার প্রথমবারের মতো ব্যাপকভাবে ড্রোন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রশাসন আশাবাদী।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং দিনশেষে ভোটের ফলাফল ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ট্যাক

রাত পোহালেই ত্রয়োদশ নির্বাচন

আপডেট সময় ০২:১৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোঃ মাহাবুব আলম, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)

দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ভোটাধিকার নিয়ে বিতর্কের পর অবশেষে ভোট উৎসবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে দেশ। রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে ইতোমধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাজ করছে উত্তেজনা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে নানা আলোচনা।

ঠাকুরগাঁও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের অপেক্ষা। এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন—এমন প্রত্যাশা প্রশাসনের।

রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে কিনা। বিএনপি নাকি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করবে—এ বিষয়টি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ঠাকুরগাঁওসহ সারাদেশেই তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও জেলার ৩টি আসনে মোট ৪১৭টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্র তিনদিন ধরে সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মাঠে থাকবে ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ২২ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনীর ১১ প্লাটুন, বিজিবির ৩২ প্লাটুন, র‍্যাবের ৩ প্লাটুন, পুলিশের ১ হাজার ২৫০ জন সদস্য এবং ৬ হাজারেরও বেশি আনসার সদস্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই বিশাল উপস্থিতি ভোটের পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা বলেন, জেলার ২০১টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এবার প্রথমবারের মতো ব্যাপকভাবে ড্রোন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রশাসন আশাবাদী।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং দিনশেষে ভোটের ফলাফল ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।