ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
 জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে বড়াইগ্রাম রনক্ষেত্র - দৈনিক মুক্তি

 জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে বড়াইগ্রাম রনক্ষেত্র

সৈকত আহমেদ, বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি:

নাটোরের বড়াইগ্রামে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. হাসিনুর রহমান (৬০) ও বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আসাব সরকার (৫৫)সহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নগর ইউনিয়নের ধানাইদহ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সেনা কমান্ডার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত মাওলানা মো. হাসিনুর রহমানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে আহত বিএনপি নেতা আসাব সরকারকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রফিকুল ইসলাম, সৈয়দ সেখ, হুমায়ুন কবির, সাইদুল ইসলামসহ আরও অন্তত ১০ জন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতরা সকলেই ধানাইদহ এলাকার বাসিন্দা।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার বিকেলে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাব্বির হোসেনকে মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির কয়েকজন কর্মী তাকে মারপিট করেন। এর জের ধরে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দা, কুড়াল, হাসুয়া, লাঠি ও ইট-পাটকেল নিয়ে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, গুলির ঘটনাও ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের পরাজিত প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হাকিম সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক আসমা শাহিন সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন পরবর্তী কোনো সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বিরোধী কার্যকলাপ কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দলীয় নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, কোনো ধরনের সহিংসতা বা উস্কানি গ্রহণযোগ্য নয় এবং বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাক

 জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে বড়াইগ্রাম রনক্ষেত্র

আপডেট সময় ১২:১৪:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সৈকত আহমেদ, বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি:

নাটোরের বড়াইগ্রামে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. হাসিনুর রহমান (৬০) ও বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আসাব সরকার (৫৫)সহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নগর ইউনিয়নের ধানাইদহ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সেনা কমান্ডার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত মাওলানা মো. হাসিনুর রহমানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে আহত বিএনপি নেতা আসাব সরকারকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রফিকুল ইসলাম, সৈয়দ সেখ, হুমায়ুন কবির, সাইদুল ইসলামসহ আরও অন্তত ১০ জন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতরা সকলেই ধানাইদহ এলাকার বাসিন্দা।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার বিকেলে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাব্বির হোসেনকে মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির কয়েকজন কর্মী তাকে মারপিট করেন। এর জের ধরে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দা, কুড়াল, হাসুয়া, লাঠি ও ইট-পাটকেল নিয়ে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, গুলির ঘটনাও ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের পরাজিত প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হাকিম সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক আসমা শাহিন সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন পরবর্তী কোনো সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বিরোধী কার্যকলাপ কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দলীয় নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, কোনো ধরনের সহিংসতা বা উস্কানি গ্রহণযোগ্য নয় এবং বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।