
আরিফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষকারীরা অন্তত ৮ থেকে ১০টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং ৩ থেকে ৪টি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলার সংযোগস্থল ময়েনদিয়া বাজার এলাকায় এ সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, জেলার সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড়খারদিয়া এলাকার মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ ও বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ. মান্নান মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয় আধিপত্য ও বাজার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সূত্রপাত বলে জানা যায়। এর জের ধরে শনিবার সকালে দুই উপজেলার খারদিয়া, নটখোলা, ময়েনদিয়া, পরমেশ্বরদী, তেলজুড়ি ও হাসামদিয়াসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ দু’পক্ষে বিভক্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে হামলাকারীরা কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু বাড়িতে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে ৩ থেকে ৪টি ঘর পুড়ে যায়। সংঘর্ষের সময় নারী ও শিশুরা আতঙ্কে দিকবিদিক ছোটাছুটি করে। এ ঘটনায় কয়েক একর জমির ফসলও নষ্ট হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর আহত কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে পরমেশ্বরদী ইউপি চেয়ারম্যান আ. মান্নান মাতুব্বর ও মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদকের নাম 











