

পারভেজ হাসান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানকে অবিলম্বে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন পীরগঞ্জ উপজেলার ৬নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান চৌধুরী।
তিনি বলেন, “জাহিদুর রহমানকে মন্ত্রী না করলে ঠাকুরগাঁও-৩ আবারও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত থেকে বঞ্চিত হবে। এই অঞ্চল আর অবহেলা সহ্য করবে না।”
চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁও-৩ আসন অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং কৃষি আধুনিকায়নে পিছিয়ে রয়েছে। এলাকায় বড় কোনো শিল্পপ্রকল্প নেই, উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগও হয়নি। যুব সমাজের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, প্রভাবশালী নেতৃত্ব ছাড়া এই অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা এবং দমন-পীড়নের সময়েও জাহিদুর রহমান মাঠে সক্রিয় ছিলেন। চেয়ারম্যানের ভাষায়, “দলের দুর্দিনে যারা আড়ালে সরে যায়, তিনি তাদের মতো নন। তিনি রাজপথে ছিলেন, সংগঠন ধরে রেখেছেন।” পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈলে তৃণমূল সংগঠনকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে জাহিদুর রহমানের আর্থিক ও ব্যক্তিগত ত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতি করা এই নেতা দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, জাহিদুর রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে একাধিকবার পীরগঞ্জে এনে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার ভূমিকা রাখেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন গতি আনে।
এ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, “ঠাকুরগাঁও-৩ আর প্রতিশ্রুতি চায় না—চায় বাস্তব উন্নয়ন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় শক্ত অবস্থান না থাকলে বড় বাজেট, বড় প্রকল্প, শিল্পাঞ্চল বা বিশেষ কৃষি কর্মসূচি আদায় করা কঠিন। জাহিদুর রহমান সেই লড়াই করতে সক্ষম।”
স্থানীয় নেতাকর্মীরাও একই সুরে বলেন, জাহিদুর রহমানকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা কেবল ব্যক্তিগত পদোন্নতির বিষয় নয়; এটি ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের উন্নয়ন রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সুযোগ। তাঁদের দাবি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক যোগাযোগ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
এলাকাজুড়ে তাই একটিই দাবি জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে—“যোগ্য নেতৃত্বকে দায়িত্ব দিন, ঠাকুরগাঁও-৩-কে বঞ্চিত রাখবেন না।”
আপনার মতামত লিখুন :