ধামইরহাটে খাসির আড়ালে কুকুরের মাংস


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০২-১৫, ৩:০১ PM /
ধামইরহাটে খাসির আড়ালে কুকুরের মাংস

মোসফিকা আক্তার, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় খাসির মাংসের নামে কুকুরের মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ী বাজার সংলগ্ন তেতুলতলী মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই এলাকাজুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবাড়ী বাজারে খাসির মাংস বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত এনতাজুল কসাই ও তার সহযোগী দুলু মৌলভী দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাংস বিক্রি করে আসছিলেন। তারা সাধারণত নিজ বাড়িতে পশু জবাই করে মাংস প্রক্রিয়াজাত করে দোকানে এনে বিক্রি করতেন। দীর্ঘদিনের পরিচিত ব্যবসায়ী হওয়ায় সাধারণ মানুষ তাদের কাছ থেকেই নিয়মিত মাংস কিনতেন।

রোববার সকালে এনতাজুল কসাইয়ের বাড়িতে একটি কুকুর জবাই করার দৃশ্য প্রতিবেশীদের নজরে আসে। এতে সন্দেহ হলে তারা আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানান। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে অভিযুক্ত কসাই ও তার সহযোগী দোকানে রাখা মাংস ফেলে রেখে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। এরপর শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় এবং উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খাসির মাংসের আড়ালে প্রতারণা করে কুকুরের মাংস বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল।

খবর পেয়ে ধামইরহাট থানার এসআই আবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাংসগুলো জব্দ করেন। পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এআই টেকনিশিয়ান মিজানুর রহমান মিন্টু ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত করেন যে উদ্ধারকৃত মাংস খাসির নয়, বরং কুকুরের।

জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫ কেজি জবাইকৃত কুকুরের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত এন্তাজুল ও দুলু মৌলভী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত মাংসগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা হচ্ছে।”

ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাংস উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

সচেতন মহলের মতে, ভেজাল ও প্রতারণামূলকভাবে খাদ্য বিক্রি করা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভয়াবহ প্রতারণা করা হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। এলাকায় এখনও ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং পুলিশি অভিযানের অগ্রগতি জানতে অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।