ব্যবসা হারিয়ে কুল চাষে সাফল্য


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০২-১৬, ১:১৫ PM /
ব্যবসা হারিয়ে কুল চাষে সাফল্য

ঝfলকাঠি জেলা প্রতিনিধি: করোনার ধাক্কায় রাজধানীতে গড়া স্বপ্নভাঙা ব্যবসা হারিয়ে যখন দিশেহারা সময় পার করছিলেন ঝালকাঠির তরুণ উদ্যোক্তা ইছমে আজম সোহাগ, তখন কেউ ভাবেননি—এই বিপর্যয়ই একদিন তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে। হাল না ছেড়ে কৃষিকে আঁকড়ে ধরেছিলেন তিনি। আর সেই সিদ্ধান্তই আজ তাকে এনে দিয়েছে সাফল্যের মুকুট। কুল চাষ করে এক মৌসুমেই প্রায় ১২ লাখ টাকা আয়ের পথে হাঁটছেন তিনি।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের রূপোসিয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ একসময় ঢাকায় ছোট একটি ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ২০১৯ সালে করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে বাধ্য হয়ে গ্রামে ফিরে আসেন। শুরু হয় অনিশ্চয়তার দিন। পরিবার, ভবিষ্যৎ আর সংসারের দায় কাঁধে নিয়ে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে থাকেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সোহাগ। নিজস্ব জমি পর্যাপ্ত না থাকলেও সাহস হারাননি। বিআইডব্লিউটিএ’র ১০ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে পাঁচ বিঘায় থাই আপেলকুল ও বনসুন্দরী কুলের বাগান গড়ে তোলেন। বাকি পাঁচ বিঘায় শুরু করেন পেয়ারা চাষ।

পেয়ারা থেকে আশানুরূপ ফল না মিললেও কুল বাগান যেন সোনার খনি হয়ে ওঠে। যশোর থেকে শতাধিক উন্নত জাতের চারা এনে রোপণ করেন তিনি। মাত্র আট মাসের মাথায় গাছে ফল আসে। প্রথম বছর প্রতিটি গাছে ২০-৪০ কেজি ফলন হলেও চলতি মৌসুমে প্রতিটি গাছে গড়ে প্রায় তিন মণ পর্যন্ত কুল ধরেছে। বড় আকার, আকর্ষণীয় রঙ ও মিষ্টি স্বাদের কারণে বাজারে চাহিদা ব্যাপক।

মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। স্থানীয় ক্রেতারা সরাসরি বাগান থেকে কিনছেন, খুচরা ব্যবসায়ীরা জেলার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করছেন। এমনকি লঞ্চযোগে ঢাকায়ও যাচ্ছে তার কুল। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে প্রায় ১২ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন সোহাগ।

তিনি জানান, চারা রোপণের পর বড় ধরনের অতিরিক্ত খরচ নেই। নিয়মিত পরিচর্যা, সেচ ও আগাছা দমনে ৮-১০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। কম রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ফলের মান ভালো থাকায় ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে।

তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকায় আরও কয়েকজন যুবক কুল চাষে এগিয়ে এসেছেন। আগামী বছর তাদের বাগানেও ফলন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় ইছমে আজম সোহাগ সফল হয়েছেন। ঝালকাঠির মাটি ও আবহাওয়া উন্নত জাতের কুল চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক প্রশিক্ষণ ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা গেলে জেলায় বাণিজ্যিক কুল চাষে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

করোনায় হারানো স্বপ্নকে পেছনে ফেলে মাটির সঙ্গে লড়াই করে ঘুরে দাঁড়ানোর এই গল্প এখন ঝালকাঠিতে অনুপ্রেরণার নাম। কুলের বাগানে দাঁড়িয়ে সোহাগের আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠ—“কৃষিই এখন আমার ভরসা, এই মাটিই আমার ভবিষ্যৎ।”