

মোঃ রতন মিয়া, পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি; রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সিলযুক্ত ৬টি ব্যালট পেপার ও ২টি সিল উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পপি খাতুন ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত জনতা তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে লিখিত আশ্বাস দেওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। বের করে আনার সময় তার সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ছুটি শেষে বিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষক ও স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সকাল প্রায় ১১টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির জুনায়েদ ও পঞ্চম শ্রেণির নবীউল শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করার সময় আলমিরার ভেতরে সিলযুক্ত ৬টি ব্যালট পেপার দেখতে পায়। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের ২টি, ‘হ্যাঁ’ ভোটের ২টি এবং ‘না’ ভোটের ২টি ব্যালট ছিল বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ২টি সিলও উদ্ধার করা হয়।
শিক্ষার্থীরা বিষয়টি প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াদুদকে জানালে অন্য শিক্ষকরাও অবগত হন। খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হন। একপর্যায়ে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ সেখানে সমবেত হন এবং প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। কিছু নারী ঝাড়ু উঁচিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
খবর পেয়ে ইউএনও পপি খাতুন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান, ওসি সোহেল রানা এবং পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উত্তেজিত জনতা ইউএনওকে বিদ্যালয় ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং লিখিত বক্তব্য দেওয়ার দাবি তোলে। পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুন্নবী পলাশসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর ইউএনও লিখিত দেওয়ার পর অবরোধ শিথিল হয়। তবে তাকে স্কুল ভবন থেকে বের করে গাড়িতে তোলার সময় কিছু উত্তেজিত ব্যক্তি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ বিষয়ে ইউএনও পপি খাতুন জানান, “আমি প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের ডেকেছি, সেখানে বিস্তারিত জানাবো।”
আপনার মতামত লিখুন :