

আতিকুর রহমান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধের মরদেহ প্রায় ৩০ ঘণ্টা দাফন ছাড়া থাকার পর অবশেষে সমঝোতার মাধ্যমে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে লিখিত চুক্তিতে দুই পক্ষের স্বাক্ষরের পর দাফন সম্পন্ন হয়। ঘটনাটি নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পয়রাডাঙ্গা বাজার এলাকায় ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজিজার রহমান (৭৫) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। পরদিন বুধবার বেলা ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। তবে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে সামনে আসে। এর জেরে নির্ধারিত সময়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি।
পারিবারিক সূত্র জানায়, জীবদ্দশায় আজিজার রহমান বাড়িভিটাসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে টাইগারের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলে আবদুল হাকিমের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। বুধবার সকালে এলাকাবাসী জানাজায় অংশ নিতে জড়ো হলে আবদুল হাকিম সম্পত্তির সমবণ্টনের দাবি তুলে দাফনে আপত্তি জানান। ফলে মরদেহ কাফন পরানো অবস্থায় বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকে।
প্রতিবেশী খয়বর আলী, আক্কাছ আলী, রফিকুল ইসলাম ও আজিজুল হকসহ স্থানীয় অনেকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। দিনভর স্থানীয় মুরব্বি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিক বৈঠক করেন। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও রাত ১০টার দিকে সালিশ বৈঠকে সমঝোতা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বসতভিটার ২১ শতাংশ জমির মধ্যে দুই ভাই ৮ শতাংশ করে পাবেন এবং অবশিষ্ট অংশ বোনের জন্য বরাদ্দ থাকবে। আবাদি জমি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বণ্টনের বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হন। এ বিষয়ে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করা হয়। পরে রাত ১১টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লা হিল জামান জানান, এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি এবং বিষয়টি তার জানা নেই।
আপনার মতামত লিখুন :