ছুটিতে স্কুল চালু, ক্ষোভ শ্রীপুরে


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০২-২৫, ৪:৫২ PM /
ছুটিতে স্কুল চালু, ক্ষোভ শ্রীপুরে

আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর): উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা এবং সরকারি ছুটি বহাল থাকা সত্ত্বেও গাজীপুরের শ্রীপুরে বীরদর্পে চালু রয়েছে আবেদ আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম। গত কয়েকদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের ইমেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ঢল নেমেছে। অনেকেই গোপনে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছেন, শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় এখনো একাধিক স্কুল ও কোচিং সেন্টার খোলা রয়েছে। তবে প্রতিহিংসার আশঙ্কা ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে অধিকাংশ অভিভাবকই নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বকেয়া বেতন ও সেশন ফি আদায়ের লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীদের কার্যত জিম্মি করে ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে আলোচিত আবেদ আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়মিত পাঠদান ও পরীক্ষা চলছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমানের পূর্বঘোষণা—“১৫ রমজান পর্যন্ত স্কুল খোলা থাকবেই”—এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও ওঠে, যা নিয়ে এখনো ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
অভিভাবকদের পাঠানো বার্তায় আরও দাবি করা হয়েছে, পাঠদানের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ দেখা যাচ্ছে। এদিকে এলাকায় শিক্ষক কর্তৃক পরীক্ষার্থী হয়রানির অভিযোগও আলোচনায় এসেছে, যা সামগ্রিকভাবে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পূর্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। ফলে স্থানীয়দের প্রশ্ন—আইন সবার জন্য সমান হলেও কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হচ্ছে না কেন?
শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরাও।