সালথায় মাদক সেবন ও ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রী-সন্তানকে মারধর


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০২-২৭, ১:৩০ PM /
সালথায় মাদক সেবন ও ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রী-সন্তানকে মারধর

আরিফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি,

ফরিদপুরের সালথায় মাদক ব্যবসা ও সেবনে বাধা দেওয়ায় নিজের স্ত্রী ও সন্তান কে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সাহিদ শেখ (৪৫) সে স্থানীয় আকুব্বর শেখের পুত্র। এই বিষয়ে সালথা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে সাহিদের ছেলে আশিক শেখ। বর্তমানে তারা পার্শ্ববর্তী গ্রামে মামা বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সাহিদ শেখ এর আগে কয়েক দফা মাদক সহ পুলিশের হাতে আটক হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, সাহিদ শেখ দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছিলো। মাদক সহ সে পুলিশের হাতে কয়েকদফা আটক হয়। কিছুদিন জ্বেল খেটে বের হয়ে আবারও মাদক ব্যবসা ফিরে আসে। সাহিদের ছেলে আশিক লেখাপড়া করে এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরিক্ষার্থী ছিলো। বাবা মাদক ব্যবসায়ী হওয়ায় বন্ধুদের সমাজে সে ছোট হয়ে যায়। তাই বাবাকে মাদক সেবন ও ব্যবসায় নিষেধ করায় আশিক কে প্রায়ই মারধর করে এবং তার সকল বই খাতা পুড়িয়ে ফেলে পাষণ্ড বাবা সাহিদ।

গত বুধবার বিকেলে সাহিদ কয়েকজন কে নিয়ে বাড়িতে মাদক সেবন করতে থাকলে, আশিক ও তার মা জাহানারা বাধা দিলে তাদের মারধর করে বাড়িতে থেকে বের করে দেয়। এসময় সাহিদ তার আড়াই বছরের ছেলে ইয়াসিন কে নিজের কাছে রেখে দেয়। বর্তমানে, আশিক ও তার মা জাহানারা পার্শ্ববর্তী গ্রামে মা বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। কোন থানা পুলিশ করলে তার শিশু পুত্র জুনায়েদ কে গুম করবেন বলেও হুমকি দিয়েছে সাহিদ। বর্তমানে শিশু জুনায়েদ কে ফিরে পেতে এবং সাহিদের বিচারের দাবিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী থানায় অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থী আশিক শেখ।

সাহিদের স্ত্রী আশিকের মা জাহানারা জানায়, সাহিদ শেখ বাবা এবং স্বামী নামের কলঙ্ক। সে সংসারে কোন খরচ পাতি করে না। আমরা খুব কষ্ট করে সংসার চালাই ও ছেলেটাকে ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়িয়েছি। বাবার মাদক ব্যবসা ও সেবনে বাধা দেওয়ায় প্রায়ই আমাকে মারধর করে, ছেলেটাকে বেধে মারধর করে। গত বুধবার লোকজন নিয়ে বাড়িতে মাদক সেবনকালে বাধা দেওয়ায় আমাদের মারধর করে ছোট্ট দুধের শিশু জুনায়েদ কে আটকে রেখে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। কোন থানা পুলিশ করলে শিশু কে গুম করে দেওয়ার হুমিক দেয়। আমি দ্রুত আমার ছোট্ট ছেলেকে ফেরত চাই এবং বিচার চাই।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, পাষণ্ড বাবা মাদক ব্যবসায়ী সাহিদের কঠিন শাস্তি দাবি করেছে স্থানীয়রা। এই বিষয়ে অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী সাহিদ শেখের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনি তিনি বাড়িতেও নেই।

এই বিষয়ে সালথা থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মারুফ হাসান রাসেল বলেন, মাদক সেবান ও বিক্রিতে বাধা দেওয়া স্ত্রী ও সন্তান কে মারধরের অভিযোগ পেয়েছি এক মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। মাদক ব্যবসায়ী সাহিদ শেখ  কে আটকের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।