

রাফাত আহম্মেদ, দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা দেবিদ্বারে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় প্রায় সারাবছরই বিদ্যুৎ বিভ্রাট লেগেই থাকে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গরমের সময় শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্যান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাসামগ্রী বন্ধ হয়ে যায়, ফলে পাঠদান কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী ভর্তি থাকেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ চলে গেলে পর্যাপ্ত জেনারেটর সুবিধা না থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রমে বিলম্ব ঘটে। একইভাবে বেসরকারি প্রায় ৩০টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও লোডশেডিংয়ের কারণে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সেবায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।
শুধু স্বাস্থ্যখাত নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট, কম্পিউটার ও প্রিন্টিং প্রেসের দোকান ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছে। হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক সময় যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
গ্রামাঞ্চলেও লোডশেডিংয়ের প্রভাব স্পষ্ট। সেচনির্ভর কৃষিকাজে বিদ্যুৎ না থাকায় কৃষকদের ভোগান্তি বাড়ছে। সময়মতো সেচ দিতে না পারায় ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। স্থানীয়রা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :