
ফাহিম হোসেন রিজু | ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর -
দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দেশের কোনো পরিবারই সরকারের সেবামূলক কর্মসূচির বাইরে থাকবে না। বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নের সব পরিবারকে আনা হবে এবং এই কার্ড পরিবারের নারী সদস্য বা মায়ের নামে ইস্যু করা হবে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩নং সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি’র আওতায় গবাদি পশু বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে দেশের পনেরোটি অঞ্চলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। এই কার্ড বিতরণে কোনো দলীয় বা ধর্মীয় পরিচয় দেখা হবে না। হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্তরা সরাসরি এই কার্ডের সুবিধা ভোগ করবেন। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারও কার্ড পাবে, তবে তারা তাদের সুবিধা দরিদ্রদের জন্য দান করতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, এই কার্ডের বিপরীতে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা সরাসরি উপকারভোগীর মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। কার্ড পাওয়ার জন্য কাউকে অফিসে যেতে হবে না; সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাড়িতে গিয়ে কার্ড পৌঁছে দেবেন।
কৃষকদের স্বস্তির খবর দিয়ে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রথম ক্যাবিনেট সভাতেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া কৃষির আধুনিকায়ন ও সেচ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য আগামী ১৬ মার্চ থেকে সারাদেশের ৫৩টি জেলায় খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু হবে।
ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার চায় কেউ ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত না থাকুক। এজন্য উপকারভোগীদের স্বাবলম্বী করতে গবাদি পশু বিতরণ করা হচ্ছে। এগুলো বিক্রি বা জবাই না করে লালন-পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
ভিজিএফ চাল বিতরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঈদের আগে প্রত্যেক মা যেন সঠিক ওজনে ১০ কেজি চাল পান তা নিশ্চিত করতে হবে। দরিদ্র মানুষের প্রাপ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে বলেন, মাদক, জুয়া, অবৈধ বালু উত্তোলন বা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, উপজেলা ও পৌর বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে মন্ত্রী প্রতীকীভাবে স্থানীয় উপকারভোগীদের মাঝে গবাদি পশু (ছাগল) বিতরণ করেন।