
জাহিদুল হক বাবু | ঝিনাইদহ প্রতিনিধি -
ঝিনাইদহের সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর নারী সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে মাধবপুর গ্রামে ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীদের একত্রিত হওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
আহত ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সির ভাষ্যমতে, জামায়াত কর্মীরা সেখানে জড়ো হলে প্রতিবেশী ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ইলিয়াস হোসেন কারণ জানতে চান। এ সময় জামায়াতের নারী ও পুরুষ কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান দাবি করেন, নারী কর্মীরা সেখানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করছিলেন। বিএনপি কর্মীরা সেখানে হামলা চালালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং তাদেরও ৫-৬ জন কর্মী গুরুতর আহত হন।
উভয় পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১২ থেকে ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত কৃষকদল নেতা তরু মুন্সিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ দাবি করেন, মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী তরু মুন্সির মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং সেই আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াত সমর্থকদের দাবি, তরু মুন্সি হামলার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এবং বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে র্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল মামলার প্রধান আসামি ডা. মনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করেছে বলে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুলিশ ও র্যাব নিয়মিত টহল দিচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল বলেন, জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। অপরাধী যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।