কারাগারে ঈদের আনন্দ, মানবিক উদ্যোগে আলোচনায় সবাই


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৩-২২, ১০:৩৩ AM /
কারাগারে ঈদের আনন্দ, মানবিক উদ্যোগে আলোচনায় সবাই

মোসফিকা আক্তার | নওগাঁ –
ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, উৎসব আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে অনেকেই এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে কারাগারের ভেতরেই ঈদ উদযাপন করেন। সেই বাস্তবতায় নওগাঁ জেলা কারাগারে এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করে এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কারা কর্তৃপক্ষ। (ঘটনাটি সম্প্রতি ঘটেছে; নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ নেই)
নওগাঁ জেলা কারাগারের জেল সুপার রত্না রায় ও জেলার শাহরিয়ার আলম চৌধুরীর উদ্যোগে এবারের ঈদকে ঘিরে কারাগারে তৈরি করা হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কারাগারের ভেতর রঙিন বাতি ও বর্ণিল ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয় পুরো প্রাঙ্গণ, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ছিল অনেক বেশি আকর্ষণীয়। ডিআইজি প্রিজনের নির্দেশনায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঈদের নামাজও অনুষ্ঠিত হয় সুশৃঙ্খলভাবে দুই ধাপে। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে প্রথম জামাতে কারা কর্মকর্তা ও স্টাফরা অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে দ্বিতীয় জামাতে অংশ নেন সকল বন্দী, যেখানে ইমামতি করেন কারাগার মসজিদের নিয়োজিত ইমাম। বর্তমানে নওগাঁ জেলা কারাগারে মোট ১,০১০ জন বন্দী রয়েছেন, যার মধ্যে ৪২ জন নারী।
ঈদ উপলক্ষে বন্দীদের জন্য ছিল বিশেষ খাবারের আয়োজন। সকালের নাস্তায় পরিবেশন করা হয় মুড়ি ও পায়েস। দুপুরে ছিল গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, ডিম, মিষ্টি, কোমল পানীয়, পান-সুপারি ও সাদা পোলাও। রাতের খাবারে রাখা হয় রুই মাছ ভাজি, আলুর ঘাঁটি ও সাদা ভাত। প্রতি বছরের মতো এবারও উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করা হলেও, নতুন কিছু আইটেম যুক্ত করে আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করা হয়।
এছাড়াও অসচ্ছল বন্দীদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে। নারী বন্দীদের জন্য দেওয়া হয়েছে মেকআপ বক্স এবং তাদের শিশুদের জন্য নতুন জামা-কাপড়। কারাগারের স্টাফদের জন্যও একই রঙের পাঞ্জাবি সরবরাহ করা হয়, যা ঈদের আনন্দকে আরও একাত্ম করে তোলে।
ঈদের পরদিন বন্দীদের জন্য ছিল বিশেষ সুযোগ। নির্ধারিত সময়ের বাইরে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিটি বন্দীকে ৫ মিনিট করে মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয় এবং বাড়ির তৈরি খাবার গ্রহণের অনুমতিও দেওয়া হয়, যা অতীতে খুব একটা দেখা যায়নি।
দর্শনার্থীদের জন্য কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ছিল আপ্যায়নের ব্যবস্থাও। তাদের মাঝে বিতরণ করা হয় কোমল পানীয়, গোলাপ ফুলের স্টিক এবং শিশুদের জন্য চকলেট।
এ বিষয়ে জেল সুপার রত্না রায় বলেন, “ডিআইজি প্রিজনের নির্দেশনায় আমরা চেষ্টা করেছি বন্দীদের জন্য একটি মানবিক ও আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করতে।” জেলার মোঃ শাহরিয়ার আলম চৌধুরী জানান, “আমাদের লক্ষ্য আগামী দিনগুলোতে আরও সুন্দর ও মানবিকভাবে কারাগার পরিচালনা করা।” (উভয় পক্ষের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে)
নওগাঁ জেলা কারাগারের এই উদ্যোগ শুধু একটি উৎসব আয়োজন নয়, বরং বন্দীদের প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো।