

পারভেজ হাসান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে কটূক্তি ও বিকৃত ছবি প্রকাশের ঘটনায় এবার গ্রেফতার হলেন নিজ দলেরই এক সমর্থক যুবক। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া, ক্ষোভ ও বিতর্ক।
পুলিশ জানায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার ছবি বিকৃত করে আপত্তিকর, ব্যঙ্গাত্মক ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে উপজেলার সৈয়দপুর এক্তিয়ারপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২৬(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবক নিয়মিতভাবে তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে তা দিয়ে সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হয়, যা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় পীরগঞ্জ উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোছাঃ নাহিদ পারভীন রিপা বাদী হয়ে সোমবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে উপজেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক উম্মে কুলসুমকে।
বাদী নাহিদ পারভীন রিপা বলেন,
“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অপব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সম্মানহানি ও সমাজে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এর কঠোর বিচার চাই।”
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো—অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই বিএনপি-সমর্থক হওয়ায় দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই বলছেন,
“নিজ দলের নেতাদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ আচরণ মেনে নেওয়া যায় না, তবে একই সঙ্গে দলীয় অভিযোগেই গ্রেফতার হওয়াটা অত্যন্ত বিব্রতকর।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পীরগঞ্জে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে সমালোচনা, প্রতিবাদ এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝড়। অনেকেই এটিকে “দলীয় শৃঙ্খলার চরম অবক্ষয়” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন—“আইনের প্রয়োগ হোক নিরপেক্ষভাবে, দলীয় পরিচয় নয়, অপরাধই হোক মূল বিবেচ্য।”
আপনার মতামত লিখুন :