লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের চাপারতল এলাকায় প্রায় ৪০ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমি বেদখলের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার নুর মোহাম্মদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল সকালে চাপারতল মৌজায় ক্রয়কৃত ৩৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন নুর মোহাম্মদসহ কয়েকজন। ভুক্তভোগী ওসমান গনির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি জমিটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছিলেন। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে এসে সেখানে টিনের ঘর নির্মাণ করে জমি দখল করা হয়।
এ সময় বাধা দিতে গেলে তাকে মারধরের চেষ্টা করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে জানান ওসমান গনি।
ভুক্তভোগী ওসমান গনি বলেন, "আমি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছি। হঠাৎ করে তারা লোকজন নিয়ে এসে আমার জমিতে ঘর তুলে দখল করে নিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।"
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেদখলকৃত জমিতে ইতোমধ্যে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিটি দীর্ঘদিন ধরেই ওসমান গনির ভোগদখলে ছিল। একই কথা জানান প্রতিবেশি আনিচা খাতুনও। সম্প্রতি বিবাদীরা ভাড়াটিয়া লোকজন এনে জমিটি দখলে নেয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নূর মোহাম্মদ বলেন, "জমিটি আমাদের নিজস্ব। আইনগত কাগজপত্র রয়েছে। কাউকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ বা দখল করার প্রশ্নই ওঠে না।"
অপরদিক নুর মোহাম্মদের ভাগিনা আব্দুল খালেক বলেন, জমিটির উপর আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। ১৪৪ ারা ভঙ্গ করে বসতঘর নির্মাণ করার কারণ জানতে চাইলে খালেক বলেন তারা ভোগদখল করতে পারলে আমরা বেদখল কেন করতে পারব না।
সরেজমিনে উভয়ের কাগজপত্র দেখে জানা যায় ওসমানগনি ৪০ বছর ধরে উক্ত জমি দলিল মূলে ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছিলেন কিন্তু ৯০ এর মাঠজরিপে তার নাম ভুলবশত প্রকাশ না হওয়ায় মূলমালিকের নামে হয়। এটাই সকল সমস্যার কারন হয়ে এ পর্যন্ত গড়িয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।