
আশিকুর রহমান সবুজ,গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি লিখিত অভিযোগপত্র। নিহতদের মরদেহের পাশে পাওয়া এসব কাগজপত্রকে ঘিরে তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত প্রত্যেকের মরদেহের ওপর একটি করে কম্পিউটারে টাইপ করা অভিযোগপত্র পাওয়া গেছে। অভিযোগপত্রগুলোতে একই ধরনের বক্তব্য লেখা ছিল এবং সেগুলো গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগপত্র আদৌ থানায় জমা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গাজীপুর জেলা পুলিশের কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কাগজপত্রগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এগুলো প্রকৃত অভিযোগপত্র নাকি পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি তৈরির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
প্রাথমিকভাবে অভিযোগপত্রে পারিবারিক কলহ ও দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয় উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া অর্থসংক্রান্ত বিরোধের ইঙ্গিতও রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাতে রাজি হয়নি পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার গভীর রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া। নিহতরা হলেন তার স্ত্রী শারমিন খানম (৪০), তিন কন্যা মিম (১৬), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল (২২)।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, এক পরিবারের পাঁচ সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া রহস্যময় অভিযোগপত্র নিয়ে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।