
মামুন শেখ| প্রতিনিধি-
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনকে ঘিরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের আগেই অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে দলের হাইকমান্ড। এরই অংশ হিসেবে যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি।
বর্তমান সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না। পাশাপাশি বর্তমান কমিটির মেয়াদও শেষ হয়েছে। ফলে নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত চলছে আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার নেতৃত্ব নির্বাচনে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়, মামলা-হামলার শিকার এবং দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা নেতাদের মূল্যায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে একটি খসড়া তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের আসন্ন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, এক নম্বর সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোখতার হোসাইন, আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, রফিকুল ইসলাম রফিক, দপ্তর সম্পাদক কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এম আর গনি মোস্তফার নাম বেশি আলোচিত হচ্ছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্য থেকেও কয়েকজনকে নতুন নেতৃত্বে আনার চিন্তাভাবনা চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদেরই মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে ধারণা করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
নেতৃত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে পদপ্রত্যাশীরা বলেন, “আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বেচ্ছাসেবক দলকে আরও গতিশীল করতে যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা আমরা সাধুবাদ জানাই। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ, নির্যাতন ও সংগঠনের প্রতি আমানতদারির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নতুন কমিটি গঠন করা হবে বলে আমরা আশাবাদী। দলের একজন কর্মী হিসেবে নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই আমরা মেনে নেব।”
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা বলছেন, নতুন ও তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনে নতুন গতি ফিরবে। বিশেষ করে যারা মামলা-হামলা, কারাভোগ ও রাজনৈতিক নির্যাতনের মধ্যেও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে।
দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ ও আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার ভিত্তিতেই গঠিত হবে স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন নেতৃত্ব।