
সিলেট প্রতিনিধি:
ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সিলেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নামও পরিবর্তিত হচ্ছে। সর্বশেষ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চন্ডীপুল গোলচত্বরের নাম পরিবর্তন করে ‘রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান চত্বর’ করা হয়েছে। এর আগে গোলচত্বরটির নাম ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আব্দুস সামাদ আজাদের নামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে চত্বরটির নামকরণ করা হয়েছিল আব্দুস সামাদ আজাদের নামে। সম্প্রতি স্থানীয় একটি উদ্যোগের মাধ্যমে পুরোনো নাম অপসারণ করে নতুন সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান দক্ষিণ সুরমার বাসিন্দা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুর। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান, জাতীয় বাস্তবায়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্বকালে শাহজালাল সেতু, লামাকাজি সেতু ও শেওলা সেতুসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল।
অন্যদিকে আব্দুস সামাদ আজাদ ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
চন্ডীপুল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ‘এম এ খান চত্বর বাস্তবায়ন কমিটি’ নামে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এম আহমদ আলী দাবি করেন, আগের নামকরণ বিধিমোতাবেক হয়নি। তাই রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নতুন নামকরণ করা হয়েছে।
এদিকে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ বলেন, কৃতী সন্তানদের নামে স্থাপনার নামকরণ সম্মানের হলেও নাম পরিবর্তন বা অপসারণ অসম্মানজনক সংস্কৃতির জন্ম দেয়। তিনি এ ধরনের সংস্কৃতির অবসানের আহ্বান জানান।
শুধু চন্ডীপুল গোলচত্বরই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম পরিবর্তন বা পুনর্বহাল করা হয়েছে। দক্ষিণ সুরমার সিটি করপোরেশন পরিচালিত পার্ক এবং নগরীর কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের নাম পুনরায় সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের নামে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
একইভাবে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি আবাসিক হলের নামও পরিবর্তন ও সংশোধন করা হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বের নামে হলগুলোর নাম পুনর্নির্ধারণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রবণতা নতুন নয়। তবে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কৃতী ব্যক্তিদের অবদানকে সম্মান জানিয়ে স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য নীতিমালা প্রণয়ন করা সময়ের দাবি।