

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট)
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়ন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রমজান আলীকে আটক ও পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্কের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১১ জুন রাতে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ একটি মামলায় রমজান আলীকে আটক করে। পরে তাকে একটি নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, রমজান আলী গোড়ল ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে তার আটকের পর তাকে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে ওসি আবু সিদ্দিকের প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। তবে উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক ইমান আলী যাদুসহ সংগঠনের কয়েকজন নেতাকে সেখানে দেখা যায়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএল বাংলা নিউজে দেওয়া এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক ইমান আলী যাদু বলেন, “রমজান আলী নামে আমি কাউকে চিনি না। তিনি দলের কেউ নন, আওয়ামী লীগের কর্মী।”
তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই দাবি করেন, রমজান আলী দীর্ঘদিন ধরে মৎস্যজীবী দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমান আলী যাদুর স্বাক্ষরিত কমিটির কপি ও কমিটি গঠনের বিভিন্ন ছবিও শেয়ার করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতাকর্মী বলেন, “দলের দুর্দিনে রাজপথে থেকে রাজনীতি করেছি। আজ নিজেদের স্বার্থে একজন নেতাকে আওয়ামী লীগের কর্মী বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।”
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে ইমান আলী যাদু বলেন, “আমি প্রেস ব্রিফিংয়ে যা বলেছি, সেটাই আমার বক্তব্য।”
উপজেলা মৎস্যজীবি দলের সহ সভাপতি রুবেল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, রমজান আলী দলীয় কর্মী। গোড়ল ইউনিয়ন সম্মেলনে আমি নিজেই উপস্থিত ছিলাম বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার মুক্তা বলেন, “সম্মেলনে আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম। কমিটির বিষয়টি আমি জানি। এ ধরনের বক্তব্য ও তথ্য নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। রমজান আলীর প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয় এবং তাকে ঘিরে ওঠা বিতর্কের বিষয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :