
ইমরান হোসেন, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ফসিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে চাকরিতে পুনর্বহালের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে কমিটির কয়েকজন সদস্যের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ২১ আগস্ট ২০২৪ তারিখে অধ্যক্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও সম্প্রতি গোপনে সভা দেখিয়ে পুনরায় দায়িত্বে ফেরার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন কমিটির কয়েকজন সদস্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ বোরহানউদ্দিন ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য ফসিয়ার রহমান ৯ জুন ২০২৬ তারিখে গোপনে একটি সভা দেখান। ওই সভার কার্যবিবরণীতে কমিটির পাঁচজন সদস্যের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সদস্যরা দাবি করেছেন।
যাদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে তারা হলেন—সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল গফুর গাজী, বিদ্যোৎসাহী সদস্য মো. আতাউর রহমান, নিয়মিত অভিভাবক সদস্য মো. আমিন উদ্দিন, মো. ফরিদ উদ্দিন ও মো. শাহাদাৎ হোসেন।
তারা বলেন, সাবেক অধ্যক্ষ ফসিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, আচরণগত সমস্যা ও প্রশাসনিক অভিযোগ রয়েছে। তাদের না জানিয়ে এবং সম্মতি ছাড়া সভার কাগজপত্রে স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
একজন সদস্য বলেন, “আমরা কোনো স্বাক্ষর করিনি, অথচ আমাদের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে আমাদের মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে মানহানির মামলা করা হবে।”
নিয়মিত অভিভাবক সদস্য মো. আমিন উদ্দিন বলেন, “আমাদের না জানিয়ে সভা দেখানো হয়েছে। কোনো অনুমতি বা স্বাক্ষর ছাড়াই কাগজপত্রে আমাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
এ বিষয়ে কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার সভাপতি বোরহানউদ্দিন বলেন, ফসিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে পূর্বে দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল বলে দাবি করা হয়। তিনি কোনো চাপের মুখে নয়, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের বিষয় উঠে আসে বলে জানা যায়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, “অব্যাহতির পরও তিনি কমিটির অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করেছেন বলে আমরা শুনেছি। যদি কোনো সভা হয়ে থাকে, তা সঠিক প্রক্রিয়ায় হয়নি বলে আমরা মনে করি। বিষয়টি এখনই আমাদের নজরে এসেছে।”
অভিযুক্ত সাবেক অধ্যক্ষ ফসিয়ার রহমানের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।