
সিলেট প্রতিনিধি | সিলেট
সিলেট জেলা হাসপাতাল নামে পরিচিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি অবশেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা হাসপাতালটি শিগগিরই চালু হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (১৫ জুন) হাসপাতালটির অনুমোদনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মক্তাদির। তিনি বলেন, হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ায় সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবার অধিকতর সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও জানান, সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং অঞ্চলের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নেবে।
নগরের চৌহাট্টা এলাকায় প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটির কাজ ২০২৩ সালে সম্পন্ন হলেও নানা প্রশাসনিক জটিলতায় এতদিন চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে হাসপাতালটি দীর্ঘ সময় ব্যবহারবিহীন অবস্থায় ছিল।
এর আগে গত ৩১ মে সিলেট সফরে এসে বাণিজ্যমন্ত্রী হাসপাতালটি দ্রুত চালুর আশ্বাস দেন। এছাড়া সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১,২০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৬ দশমিক ৯৮ একর জমির ওপর হাসপাতালটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।
হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ শেষ হলেও এখনো চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন ও প্রশাসনিক দায়িত্ব নির্ধারণের কিছু কার্যক্রম বাকি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালটির পরিচালনা কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গভাবে সেবা কার্যক্রম শুরু হবে।
১৫ তলা পরিকল্পনার এই হাসপাতালের আট তলা পর্যন্ত নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এতে আইসিইউ, সিসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, ডায়াগনস্টিক বিভাগ, বিশেষায়িত চিকিৎসা ইউনিট, ওয়ার্ড ও কেবিনসহ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যক্রম শুরু হলে সিলেট বিভাগের লাখো মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর চাপও কমবে।