ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত আমার জীবনের প্রতিটি ধাপে একজন মানুষ ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন। তিনি আমার বাবা। তিনি শুধু আমাকে বড় করেননি, মানুষও করেছেন।
শৈশবে যখন আমি কোনো কিছু করতে জেদ করতাম, বাবা অনেক সময় বাধা দিতেন। তখন মনে হতো বাবা হয়তো আমাকে বুঝতে চান না। বন্ধুদের মতো সব স্বাধীনতা কেন আমাকে দেন না, সেটাও ভাবতাম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বুঝেছি, বাবার প্রতিটি নিষেধাজ্ঞার পেছনে ছিল আমার ভবিষ্যতের চিন্তা।
একবার আমি এমন কিছু মানুষের সঙ্গে মিশতে চেয়েছিলাম, যাদের সঙ্গ আমার জন্য ভালো ছিল না। বাবা আমাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছিলেন। তখন আমি কষ্ট পেয়েছিলাম। কিন্তু পরে দেখলাম, সেই মানুষগুলোর অনেকেই ভুল পথে চলে গেছে। সেদিন বাবার বাধা না মানলে হয়তো আমিও বিপদে পড়তাম।
আমার জীবনে যতবার বাবা কোনো বিষয়ে "না" বলেছেন, পরে বুঝেছি সেই "না" ছিল আমার জন্য একটি আশীর্বাদ। বাবা কখনো আমার শত্রু ছিলেন না; তিনি ছিলেন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী।
বাবা আমাকে শিখিয়েছেন সম্মান করতে, সত্য কথা বলতে, কষ্ট করে পরিশ্রম করতে এবং মানুষের মতো মানুষ হতে। তিনি হয়তো সব সময় মুখে ভালোবাসা প্রকাশ করেন না, কিন্তু তাঁর প্রতিটি ত্যাগ, প্রতিটি চিন্তা এবং প্রতিটি নির্ঘুম রাতই তাঁর ভালোবাসার প্রমাণ।
আজ বাবা দিবসে আমি শুধু একটি কথাই বলতে চাই—বাবা, আপনার প্রতিটি উপদেশ, প্রতিটি বাধা এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত আমার জীবনের জন্য কল্যাণকর হয়েছে। আপনি না থাকলে হয়তো আমি আজকের আমি হতে পারতাম না।
আমরা অনেক সময় বাবার শাসনকে কঠোরতা মনে করি। কিন্তু বাস্তবে একজন বাবার শাসনের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। তাই বাবা-মায়ের উপদেশকে অবহেলা না করে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ অভিজ্ঞতার আলোয় তারা যে পথ দেখান, সেই পথই আমাদের জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
পৃথিবীর সব বাবার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। বাবা, আপনি আমার গর্ব, আমার শক্তি এবং আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ।
লেখক- সৌরভ সরকার গণমাধ্যমকর্মী।