
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের হরি নারায়ণপুর গ্রামের সাথী খাতুন সিজারিয়ান অপারেশনের পর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
সরেজমিনে গিয়ে সাথী খাতুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, গত তিন মাস আগে সিজারিয়ান অপারেশনের পর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। বর্তমানে তিনি শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক কষ্ট ভোগ করছেন।
সাথী খাতুনের মা ফুলমালা বলেন, আলেয়া হাসপাতালে সিজার করাতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। অপারেশনের পর থেকেই তার মেয়ের বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নিতে হয়।
সাথীর স্বামী আমজাদ জানান, একাধিকবার চিকিৎসা নেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে পরিবারটি বর্তমানে আর্থিক সংকটে পড়েছে বলেও জানান তিনি।
অপারেশনের সময় রোগীর সঙ্গে থাকা প্রতিবেশী হোসেন সেখ জানান, অপারেশনের পর থেকেই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে তাকে পুনরায় হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অপারেশনের প্রায় দেড় মাস পর জরায়ু দিয়ে মাংসপিণ্ডের সঙ্গে সুতা সদৃশ বস্তু বের হয়। বিষয়টি নিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে জানতে চাইলে সন্তোষজনক উত্তর পাননি বলে অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে আলেয়া হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রুহুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার না করে বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলে দাবি করেন। তবে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “সাধারণভাবে এমন ঘটনা হওয়ার কথা নয়। যদি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, অতীতে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার জরিমানা করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।