প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রংপুরের পীরগঞ্জে কৃষি কার্ড বাস্তবায়ন ও কৃষি তথ্য সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার কোচার পাড়া পাঁচমাথা-কাদিরাবাদ এলাকায় চলমান কৃষি তথ্য সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম।
পরিদর্শনকালে তিনি কৃষকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া, তথ্যের সঠিকতা যাচাই, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং কৃষি কার্ড বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় কৃষকদের প্রকৃত ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাইফুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষি কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, কৃষি উপকরণ ও সহায়তার আওতায় আনা সম্ভব হবে। তাই তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভুল, গাফিলতি বা বিভ্রান্তির সুযোগ না রেখে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কৃষি কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়; এটি কৃষকদের সরকারি সেবা ও সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। ফলে প্রকৃত কৃষকের তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও হালনাগাদ করা জরুরি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুন নবী চৌধুরী পলাশ, সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক জাকির হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও তথ্য সংগ্রহকারীদের সঙ্গে কৃষি কার্ড বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। কৃষকদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন যাচাই, প্রকৃত কৃষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং সংগৃহীত তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সরকারি কৃষি সহায়তা সহজে ও সঠিকভাবে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে। তবে কার্ডের আওতায় প্রকৃত কৃষকদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখার দাবি জানান তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি কার্ডের আওতায় আনার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।