
ফাহিম হোসেন রিজু, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)-
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদী থেকে উদ্ধার হওয়া ৯ বছরের শিশু তাসপিয়ার পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কীভাবে এবং কোথা থেকে তাসপিয়ার মরদেহ নদীতে এলো, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ভর্ণাপাড়া টঙ্গী ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন করতোয়া নদী থেকে তাসপিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
তাসপিয়া ভর্ণাপাড়া গ্রামের শাফিউল ইসলামের মেয়ে। পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, তাকে রানীগঞ্জ বাজার এলাকার জোবাইদা বালিকা মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে ভর্তি না করিয়ে তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
মাদ্রাসার পরিচালিকা রমিসা খাতুন জানান, শুক্রবার এক ব্যক্তি তাসপিয়াকে ভর্তি করাতে মাদ্রাসায় নিয়ে আসেন। এ সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং মাসিক ১ হাজার ৮০০ টাকা খরচের কথা জানানো হয়। ওই ব্যক্তি পরদিন কাগজপত্র ও টাকা দেওয়ার কথা বলেন।
পরে পরিবারের বিষয়ে সন্দেহ হওয়ায় শনিবার রমিসা খাতুন ভর্ণাপাড়ায় তাসপিয়ার দাদির বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেন।
রমিসা খাতুনের দাবি, রোববার সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে ওই ব্যক্তি কাগজপত্র ঠিক করা ও ছবি তোলার কথা বলে তাসপিয়াকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যান। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
রাত ৯টা ১৬ মিনিটে তাসপিয়া নিজে ফোন করে জানায়, তাকে অন্য একটি মাদ্রাসায় রাখা হয়েছে। এরপর আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরদিন নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।
এদিকে স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানী বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর শাফিউল ইসলামকে নদীর পাড় এলাকায় একা ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা তাকে জানিয়েছেন। পরে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ বা কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী মামলা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনাজনিত বা স্বাভাবিক মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।